স্টাফ রিপোর্টার, ২৭ মে ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
বাংলাদেশি পাসপোর্টে “Except Israel” বা “ইসরায়েল ব্যতীত” শর্ত পুনরায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে কিছু সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্ট ও বিরোধী মতের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা “Except Israel” শব্দবন্ধকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে দাবি করছেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নাকি ইসরায়েলকে গ্রহণ বা স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে কূটনৈতিক ও আইনি বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো।
বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকেই ফিলিস্তিনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে আসছে এবং আজ পর্যন্ত ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। সেই নীতির অংশ হিসেবেই দীর্ঘদিন বাংলাদেশি পাসপোর্টে লেখা ছিল:
“This passport is valid for all countries of the world except Israel.”
অর্থাৎ, এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ হলেও ইসরায়েলের জন্য নয়।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ই-পাসপোর্ট চালুর পর আন্তর্জাতিক মান ও ডিজাইনের অজুহাতে “Except Israel” লেখাটি সরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও তখন সরকার বলেছিল, লেখাটি বাদ গেলেও ইসরায়েল বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
তবে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় দুই মাসের মধ্যে পুরোনো শর্তটি আবারও পুনর্বহালের উদ্যোগ নেয়। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, এটি মূলত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও নৈতিক অবস্থানকে পুনরায় স্পষ্ট করার পদক্ষেপ।
বিশ্লেষকদের মতে, “Except Israel” কথাটির অর্থ ইসরায়েলকে গ্রহণ করা নয়, বরং বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইসরায়েল ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা। ফলে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তা তথ্যভিত্তিক নয় বলেই মনে করছেন তারা।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের জনমত বরাবরই সংবেদনশীল। তাই পাসপোর্টে “Except Israel” পুনর্বহালকে অনেকে দেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির প্রতীক হিসেবেও দেখছেন।





