ডিএনসির ধারাবাহিক অভিযানে যশোরগামী মাদক চক্রের আরও ৪ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার ১৪,৫০০ পিস ইয়াবা

স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা ১০জুলাই ২০২৬ | মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযানে যশোরগামী একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, চারটি মোবাইল ফোন এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা…

স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা ১০জুলাই ২০২৬ |

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযানে যশোরগামী একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, চারটি মোবাইল ফোন এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

ডিএনসি জানায়, গত ৯ জুন ২০২৬ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মো. বাবুল হোসেন ওরফে বাবুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক নজরদারির মাধ্যমে তার মাদক পাচার নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।

সেই তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, যশোরভিত্তিক একটি মাদক চক্র ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ জুলাই রাতে রাজধানীর শ্যামপুর থানাধীন ধোলাইপাড় এলাকায় ঢাকা-যশোর মহাসড়কে দুটি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে ১৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা, নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, চারটি মোবাইল ফোন এবং দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. প্রিন্স মাহমুদ (৩৭), মনিরা বেগম মিষ্টি (৩০), মো. জহিরুল হক তুহিন (৩২) এবং মোছা. জলি বেগম (২০)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডিএনসি জানতে পারে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। ঢাকায় ইয়াবা সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে যশোরে নিয়ে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে সরবরাহ করতেন তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল। তদন্তে আরও জানা যায়, পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত মাদক নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করছিল।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ডিএমপির শ্যামপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্য, অর্থদাতা ও সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ডিএনসি জানিয়েছে, দেশে ইয়াবাসহ সব ধরনের অবৈধ মাদকের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ সারা দেশে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।