বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই দেশের একমাত্র অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়: তথ্যমন্ত্রী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনারে জহির উদ্দিন স্বপন; ‘প্রথমেও বাংলাদেশ, শেষেও বাংলাদেশ’ দর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ

স্টাফ রিপোর্টার | ২২ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সকল ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও নৃগোষ্ঠীকে ধারণ করে গড়ে ওঠা একমাত্র অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় পরিচয়।

বুধবার সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) জবি শাখা এ সেমিনারের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, আধুনিক জাতীয়তাবাদের ধারণায় কোনো নির্দিষ্ট গোত্র, ভাষা, বর্ণ কিংবা ধর্ম জাতীয় পরিচয়ের একক নির্ধারক নয়। বরং একটি ভূখণ্ডের বহুমাত্রিকতা, অভিন্ন স্বার্থ এবং যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই আধুনিক জাতীয় পরিচয় গড়ে ওঠে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও কেবল ধর্ম দিয়ে বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরও শুধু ভাষাভিত্তিক পরিচয় দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় পরিচয়গত সংকট থেকেই যায়। এই বাস্তবতায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নাগরিকভিত্তিক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন উপস্থাপন করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনে কোনো চাকমা, মারমা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের পরিচয়গত সংকট নেই। ‘প্রথমেও বাংলাদেশ, শেষেও বাংলাদেশ’—এই দর্শনই দেশের সব নাগরিককে সমান মর্যাদায় একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।

বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, “সকলেই আমাদের বন্ধু, তবে বন্ধুত্ব হবে বাংলাদেশের স্বার্থের ভিত্তিতে। দেশের স্বার্থের বাইরে বাংলাদেশের আর কোনো বিকল্প ঠিকানা নেই।”

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর তিনি ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামোকে সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করেন।

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন।