স্টাফ রিপোর্টার | ০৪ আগস্ট ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: চলতি আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রম তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব শ্রমিকের জন্য মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহ্দী আমিন ইতোমধ্যে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইতিবাচক সংবাদ।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন ধরে এ বাজারে কর্মী পাঠানো নিয়ে বিভিন্ন জটিলতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে বহু কর্মপ্রত্যাশী বিদেশে কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে সেই স্থবিরতা কাটিয়ে নিয়মিতভাবে কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে সরকার আশা করছে।
তিনি বলেন, অতীতে সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির আধিপত্য, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এসব কারণে অনেক বাংলাদেশি কর্মী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং বিদেশে যাওয়ার আগেই নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে চায়। সরকারের লক্ষ্য, প্রকৃত কর্মপ্রত্যাশীরা যেন কোনো ধরনের সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা অনিয়মের শিকার না হন।
তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান শুধু কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে না, দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সরকার নিরাপদ অভিবাসনের পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, সরকার চায় বিদেশগামী শ্রমিকরা বৈধ উপায়ে বিদেশে গিয়ে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশে কাজ করতে পারেন। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, নতুন শ্রমবাজার চালুর ক্ষেত্রে কর্মী নির্বাচন, নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, ভিসা প্রক্রিয়া এবং বিদেশে পাঠানোর প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। কোনো অসাধু চক্র যাতে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে না পারে, সে বিষয়েও সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান আশা প্রকাশ করে বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়বে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি বলেন, দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও যোগ্য জনশক্তিকে বিদেশে পাঠানোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম আরও বৃদ্ধি করাই সরকারের লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।





