স্টাফ রিপোর্টার
৭ আগস্ট ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে ৯ আগস্ট ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৬ শতাংশেরও বেশি মানুষ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তারা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের রক্ষক, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ব্যবস্থার অভিভাবক এবং সবার অভিন্ন ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
বাণীতে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও কল্যাণ এখনও নানাভাবে হুমকির মুখে। বিশেষ করে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে গর্ভকালীন জটিলতা এবং মা ও শিশুর মৃত্যুহার সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক দিবসটি উপলক্ষে আদিবাসী ধাত্রীদের (মিডওয়াইফ) প্রতি বিশেষ সম্মান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেন, গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে আদিবাসী ধাত্রীরা মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যগত ফলাফল উন্নত করেন, স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ান এবং ধারাবাহিক সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি তারা আদিবাসী ভাষা, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দেন।
বাণীতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্র এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যৌথভাবে স্বাস্থ্যসেবায় অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সরকারগুলোকে এমন তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রকৃত চিত্র উঠে আসে এবং তারা আর অদৃশ্য থেকে না যান।
এছাড়া ধাত্রী প্রশিক্ষণ, প্রসূতি সেবা এবং মাতৃস্বাস্থ্যে আরও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আদিবাসী নারীদের নিজেদের শরীর ও স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাণীর শেষাংশে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, “ঐতিহ্যগত জ্ঞান নতুন জীবনকে সুরক্ষা দিতে পারে।” তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, আদিবাসী ধাত্রী এবং তারা যেসব জনগোষ্ঠীর সেবা করেন, তাদের উন্নয়ন ও বিকাশে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে।





