কলেরা হলেই সময়মতো চিকিৎসা নেয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে কলেরা টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য

স্টাফ রিপোর্টার | ২০ আগস্ট ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: কলেরা হলে দেরি না করে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ পরামর্শ দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কলেরা একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। তবে সময়মতো চিকিৎসা না হলে পানিশূন্যতার কারণে এটি জীবনহানির কারণ হতে পারে। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন ও কার্যকর রোগ নজরদারির পাশাপাশি ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন কলেরা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উপকরণ।

তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে নগরায়ন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা, মানুষের চলাচল এবং কিছু এলাকার বিশেষ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে টার্গেটেড ও প্রমাণভিত্তিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়, বরং রোগের ঝুঁকি আগে থেকেই চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।

তিনি আরও বলেন, এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে যেখানে মানুষ অসুস্থ হওয়ার পর শুধু চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করবে না; বরং রোগ হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল হেলথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম আরও কার্যকর করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ ভিএএক্সইপিআই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের মাধ্যমে ই-হেলথ কার্ড পাবেন। এতে টিকা গ্রহণের তথ্য সংরক্ষণ, টিকাদানের আওতা পর্যবেক্ষণ, কর্মসূচির তদারকি ও পরবর্তী মূল্যায়ন সহজ হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলেরার প্রথম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হবে। সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করতে হবে।

এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিককে, গর্ভবতী নারী ছাড়া, বিনামূল্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই টিকা দেওয়া হবে। সারাদেশে মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিএসসিসির আওতাধীন লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর—এই চার থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, ডব্লিউএইচও-এর প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআরবির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।