ব্যাটারি রিকশার চার্জে বছরে হাজার কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ, টাকা যাচ্ছে কোথায়?

দেশে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার সংখ্যা ৪৫-৬০ লাখের মধ্যে, চার্জিংয়ে বছরে সম্ভাব্য দুই হাজার কোটি ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার; ঢাকায় শনাক্ত ৪৮ হাজারের বেশি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজ চ্যানেল বিডি, ঢাকা

দেশের শহর, উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলের সড়কে দ্রুত বেড়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান। এসব যানবাহন যেমন লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত, তেমনি প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎও ব্যবহার করছে।

কিন্তু দেশে মোট কতটি ব্যাটারিচালিত যান চলছে, কোথায় কতটি চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে, এসব পয়েন্টে মাসে কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে এবং তার কতটা বৈধভাবে বিল হচ্ছে, তার কোনো একক জাতীয় জেলাভিত্তিক সরকারি ডাটাবেজ নেই।

বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্য একত্র করলে এই খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যাপকতা সম্পর্কে একটি আনুমানিক চিত্র পাওয়া যায়।

দেশে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার সংখ্যা কত?

দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানবাহনের সংখ্যা নিয়ে একাধিক হিসাব রয়েছে।

সরকারি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বিভিন্ন হিসাবে সংখ্যা প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ। আবার CPDসহ বিভিন্ন বেসরকারি গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

তবে ৬৪ জেলার নিবন্ধন, স্থানীয় অনুমোদন ও বাস্তবে চলাচলরত যানবাহনের সংখ্যা একত্র করে যাচাই করা কোনো একক জাতীয় ডাটাবেজ প্রকাশিত না হওয়ায় এটিকে চূড়ান্ত সংখ্যা বলা যাচ্ছে না।

একটি ব্যাটারি রিকশায় কত বিদ্যুৎ লাগে?

প্রতিটি ব্যাটারি রিকশার বিদ্যুৎ ব্যবহার এক নয়। ব্যাটারির ধরন, ক্ষমতা, বয়স, মোটর, চার্জারের দক্ষতা এবং প্রতিদিন কতক্ষণ গাড়ি চলে, তার ওপর বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ নির্ভর করে।

বিভিন্ন বাংলাদেশভিত্তিক গবেষণা ও প্রতিবেদনে প্রতি পূর্ণ চার্জে কয়েক ইউনিট থেকে প্রায় ৮-১১ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়।

তাই জাতীয় পর্যায়ে হিসাব করতে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা ধরে সিদ্ধান্ত না নিয়ে একটি পরিসর ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত।

৫০ লাখ যান হলে বছরে কত বিদ্যুৎ?

শুধু হিসাব বোঝানোর জন্য ৫০ লাখ যান এবং প্রতি যান প্রতিদিন একবার পূর্ণ চার্জ নেয় ধরে যদি ৮-১১ ইউনিট ব্যবহার ধরা হয়, তাহলে:

৫০ লাখ × ৮ = ৪ কোটি ইউনিট/দিন

৫০ লাখ × ১১ = ৫ কোটি ৫০ লাখ ইউনিট/দিন

অর্থাৎ বছরে সম্ভাব্য ব্যবহার:

১,৪৬০ কোটি থেকে ২,০০৭ কোটি ইউনিট।

এটি কোনো সরকারি গ্রিড-ভিত্তিক হিসাব নয়। যানবাহনের আনুমানিক সংখ্যা ও প্রতি পূর্ণ চার্জের সম্ভাব্য বিদ্যুৎ ব্যবহার ধরে করা হিসাব।

৬০ লাখ যান হলে?

৬০ লাখ যান একই হারে হিসাব করলে:

৬০ লাখ × ৮ = ৪ কোটি ৮০ লাখ ইউনিট/দিন

৬০ লাখ × ১১ = ৬ কোটি ৬০ লাখ ইউনিট/দিন

অর্থাৎ বছরে সম্ভাব্য ব্যবহার:

১,৭৫২ কোটি থেকে ২,৪০৯ কোটি ইউনিট।

তবে বাস্তবে প্রতিটি যান প্রতিদিন একবার পূর্ণ চার্জ নেয় না। ফলে প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহার এই হিসাবের চেয়ে কম-বেশি হতে পারে।

ঢাকায় অবৈধ চার্জিংয়ের চিত্র

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চার্জিং ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ জরিপে।

DMP-এর তথ্য অনুযায়ী রাজধানীর ১০টি ক্রাইম বিভাগের মধ্যে ৮টি বিভাগে পরিচালিত জরিপে ৪৮,১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট এবং ৯৯২টি অবৈধ গ্যারেজ শনাক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকায় DPDC ও DESCO-এর অনুমোদিত চার্জিং স্টেশনের সংখ্যা প্রায় ৩,৩০০টি বলে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অনুমোদিত “চার্জিং স্টেশন” এবং DMP-এর শনাক্ত করা “অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট” একই ধরনের ইউনিট কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দুটিকে সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না।

বিভাগভিত্তিক DMP-এর তথ্য

প্রকাশিত বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী:

ক্রাইম বিভাগচার্জিং পয়েন্টগ্যারেজ
মিরপুর৩,৯৮৩২৫৯
ওয়ারী৩,৫১৬১৩৬
গুলশান২,৬৪৩১২৮
উত্তরা১,৩০৫৭২
মতিঝিল১,৩৯০৬০
লালবাগ১৯৯৭৭
তেজগাঁওউল্লেখ নেই২৩৪
রমনাউল্লেখ নেই২৬
মোট গ্যারেজ৯৯২

প্রকাশিত তালিকায় সংখ্যাসহ ছয় বিভাগের চার্জিং পয়েন্ট যোগ করলে পাওয়া যায় ১৩,০৩৬টি। কিন্তু DMP-এর মোট হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে ৪৮,১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট

অর্থাৎ বিভাগভিত্তিক প্রকাশিত তথ্য দিয়ে ৪৮,১৩৬ সংখ্যাটি পুনর্গণনা করা যাচ্ছে না।

বিশেষ দ্রষ্টব্য / নোট

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী রাজধানীতে মোট ৪৮,১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট৯৯২টি গ্যারেজ শনাক্ত করা হয়েছে। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভাগভিত্তিক আংশিক পরিসংখ্যানে সব সাব-জোনের পৃথক চার্জিং পয়েন্ট বা সকেটের সংখ্যা বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়নি। গ্যারেজভেদে চার্জিং পয়েন্ট বা সকেটের সংখ্যাও ভিন্ন হতে পারে। ফলে প্রকাশিত বিভাগভিত্তিক আংশিক তথ্য যোগ করে ডিএমপির উল্লেখ করা ৪৮,১৩৬টি মোট চার্জিং পয়েন্টের সঙ্গে সরাসরি মিল পাওয়া যাচ্ছে না

প্রতিবেদনে তাই ৪৮,১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট ও ৯৯২টি গ্যারেজের সংখ্যাকে ডিএমপির মোট শনাক্তকৃত হিসাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভাগভিত্তিক যে সংখ্যাগুলো প্রকাশ্যে পাওয়া গেছে, সেগুলোকে আংশিক পরিসংখ্যান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

চার্জিংয়ের বিদ্যুতের ট্যারিফ কত?

ব্যাটারি ও ইলেকট্রিক ভেহিকেল চার্জিংয়ের জন্য বিদ্যুতের আলাদা ট্যারিফ শ্রেণি রয়েছে।

LT-D3 শ্রেণিতে ব্যাটারি চার্জিংয়ের ফ্ল্যাট রেট প্রতি ইউনিট ১১ দশমিক ৩৬ টাকা। সময়ভেদে পিক রেট ১৪ দশমিক ২০ টাকা এবং অফ-পিক রেট ১০ দশমিক ২২ টাকা

অর্থাৎ একই বিদ্যুৎ দিনের সব সময়ে একই দামে বিক্রি হয় না। চার্জিংয়ের সময়ের ওপরও বিলের পরিমাণ নির্ভর করে।

উৎপাদন খরচ কত?

এখানেই বিদ্যুৎ খাতের বড় প্রশ্নটি আসে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য BPDB-এর প্রস্তাবিত হিসাবে গড় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১২ দশমিক ৯১ টাকা প্রতি ইউনিট হতে পারে।

অন্যদিকে নতুন কাঠামোতে গড় পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৮ দশমিক ৩৯ টাকা/ইউনিট নির্ধারণ করা হয়েছে।

BPDB-এর প্রস্তাবিত উৎপাদন ব্যয় ও গড় পাইকারি দামের মধ্যে পার্থক্য:

১২.৯১ – ৮.৩৯ = ৪.৫২ টাকা প্রতি ইউনিট।

তবে এই ৪.৫২ টাকা ব্যাটারি রিকশার প্রতি ইউনিটে সরকারি ভর্তুকি নয়। কারণ একটি বিদ্যুৎ ইউনিট উৎপাদনের পর গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পাইকারি ক্রয়, সঞ্চালন, বিতরণ, সিস্টেম লসসহ আরও বিভিন্ন ব্যয় রয়েছে।

তাই প্রকৃত ভর্তুকি নির্ধারণে পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ চেইনের হিসাব প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ খাতে ঘাটতির চাপ

BPDB-এর প্রস্তাবিত হিসাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। বর্তমান পাইকারি দরে আয় এবং উৎপাদন ব্যয়ের মধ্যে বড় ঘাটতির কথাও ওই প্রস্তাবে উঠে এসেছে।

তবে BERC-এর Technical Evaluation Committee তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে। ফলে BPDB-এর প্রস্তাবিত ১২.৯১ টাকা/ইউনিটকে চূড়ান্ত উৎপাদন ব্যয় হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।

এখানে মূল প্রশ্ন হলো, বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে রিকশার ব্যাটারিতে চার্জ পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতি ইউনিটে প্রকৃত ব্যয় কত এবং শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে।

DPDC প্রকৌশলীর বক্তব্য

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক DPDC-এর একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ব্যাটারি রিকশার চার্জিং স্টেশনে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ট্যারিফ নির্ধারণের ক্ষেত্রে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে যে প্রকৃত ব্যয় হয়, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রিকশা চার্জিং স্টেশনের বিল নির্ধারণ করা হলে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

তবে এটি ওই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মতামত। LT-D3 ট্যারিফের কারণে সরকার ঠিক কত টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে, তা নির্ধারণ করতে আলাদা করে চার্জিং খাতের বিদ্যুৎ ব্যবহার, উৎপাদন ব্যয়, পাইকারি ক্রয়মূল্য, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট রাজস্বের তথ্য প্রয়োজন।

অবৈধ চার্জিংয়ে বিদ্যুৎ চুরি কত?

DMP-এর জরিপে হাজার হাজার অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট শনাক্ত হলেও, শুধু এই সংখ্যা থেকে কত ইউনিট বিদ্যুৎ চুরি হয়েছে তা নির্ধারণ করা যায় না।

একটি চার্জিং পয়েন্টে প্রতিদিন কত ঘণ্টা চার্জ দেওয়া হচ্ছে, কতটি রিকশা চার্জ হচ্ছে, কী ধরনের মিটার রয়েছে এবং সংযোগটি সম্পূর্ণ অবৈধ নাকি বৈধ মিটারের আড়ালে অতিরিক্ত লোড নেওয়া হচ্ছে, এসব তথ্য প্রয়োজন।

তাই “৪৮,১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট মানেই ৪৮,১৩৬টি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ” বলা যাবে না।

একইভাবে, নির্ভরযোগ্য মিটারভিত্তিক তথ্য ছাড়া এসব পয়েন্ট থেকে বছরে ঠিক কত কোটি টাকার বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে, সেটিও নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।

আসল সংকট তথ্যের ঘাটতিতে

দেশে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে, তার সঙ্গে বাড়ছে চার্জিংয়ের চাহিদা। কিন্তু এই খাতের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও বিচ্ছিন্ন।

একদিকে আছে যানবাহনের আনুমানিক সংখ্যা, অন্যদিকে আছে চার্জিং পয়েন্টের আংশিক তথ্য। কিন্তু নেই এমন একটি জাতীয় ডাটাবেজ যেখানে একসঙ্গে পাওয়া যাবে:

  • জেলাভিত্তিক ব্যাটারি রিকশার সংখ্যা
  • গ্যারেজের সংখ্যা
  • অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন
  • অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট
  • মিটার ও সংযোগের ধরন
  • মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার
  • বিদ্যুৎ চুরির ইউনিট
  • চার্জিং খাত থেকে রাজস্ব
  • বিতরণ কোম্পানির আর্থিক ক্ষতি

সমাধানের জায়গা কোথায়?

এই খাতকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বাইরে রেখে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রথম প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ে ব্যাটারিচালিত যানবাহন ও চার্জিং অবকাঠামোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা

এরপর প্রতিটি চার্জিং পয়েন্টকে মিটারভিত্তিকভাবে নিবন্ধনের আওতায় এনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে।

একই সঙ্গে অনুমোদিত চার্জিং স্টেশনের জন্য বিদ্যমান ট্যারিফ কাঠামো পর্যালোচনা করে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিরূপণ করা প্রয়োজন।

তাহলেই বোঝা যাবে, ব্যাটারিচালিত যানবাহন শুধু বিদ্যুতের ওপর কতটা চাপ তৈরি করছে, এই খাত থেকে রাষ্ট্র কতটা রাজস্ব পাচ্ছে এবং কোথায় বিদ্যুৎ চুরি বা বাণিজ্যিক ক্ষতি হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC), বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB), DPDC, DESCO, ঢাকা মহানগর পুলিশ (DMP), সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (CPD) এবং সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন।