স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
সিলেটের পর্যটন, চা, মৎস্য ও শিল্পসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের অধিকতর বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, সিলেটের পর্যটন, চা, মৎস্য ও শিল্প খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা-বাগান, বন ও হাওর—সব মিলিয়ে সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল। এসব খাতকে আরও উন্নত করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশন মাঠে সিটি করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
প্রবাসীদের বিনিয়োগের আহ্বান
রাষ্ট্রপতি বলেন, যারা প্রবাসে আছেন এবং যাদের বিনিয়োগের সক্ষমতা রয়েছে, তারা সিলেটের সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগে এগিয়ে এলে পর্যটন শিল্পসহ স্থানীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।
তিনি বলেন, সিলেটের চা-বাগান শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বে বিখ্যাত। এ কারণে চা শিল্পের উন্নয়নে সিলেটের বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে।
মৎস্য ও শিল্পে বিপুল সম্ভাবনা
সিলেটে মাছ চাষের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এখানকার হাওরগুলোতে মাছ চাষের অনেক সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি সিলেটে থাকা বিভিন্ন খনিজসম্পদ কাজে লাগিয়ে বড় বড় শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
তিনি জ্বালানি, কৃষি, শিল্প, চা শিল্প, পর্যটন ও গ্যাসসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলো কাজে লাগাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সিলেটের চা রপ্তানিতে গুরুত্ব
পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তানের হাইকমিশনার কয়েকদিন আগে সিলেটে এসেছিলেন এবং এখান থেকে চা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অর্থাৎ তারা সিলেট থেকে চা আমদানি করতে আগ্রহী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা
সিলেটের প্রবাসী সমাজের অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেটের প্রবাসীরা শুধু সিলেটের অর্থনীতিতে নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
তিনি বলেন, আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দেশ পুনর্গঠন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য আবাসস্থল নির্মাণ করা।
রাষ্ট্রপতি বলেন, “আসুন এখন অন্তত আমাদের কমন যে ইস্যুগুলো আছে, সেই ইস্যুগুলোতে আমরা একমত হই। একমত হয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই।”
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশের সৌন্দর্য
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এখানে একসঙ্গে বসবাস করে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হচ্ছে এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে।
সিলেটবাসীর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সিলেটের মানুষের সঙ্গে তিনি সবসময় ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গাউছ, রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।





