আগামী ৫০ বছরের চাহিদা বিবেচনায় চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে: জাহিদ হোসেন

হৃদরোগ চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব

স্টাফ রিপোর্টার | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: আগামী ৫০ বছরের চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসাব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন ঘটাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।

শুক্রবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিভিডি) প্রথম ওপেন হার্ট সার্জারি দিবস এবং ‘কার্ডিওভাসকুলার সার্জিক্যাল কনফারেন্স অব এনআইসিভিডি-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা কেউ চিরদিন থাকব না, এ দেশ থাকবে এবং এ দেশের মানুষ থাকবে। তাই আগামী ৫০ বছরের চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসাব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন ঘটাতে হবে।’

তিনি বলেন, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে প্রদান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও বাস্তবসম্মতভাবে বিবেচনায় রাখতে হবে।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে হৃদরোগ ও জন্মগত হৃদরোগের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। এসব রোগ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে উৎপাদনশীল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

হৃদরোগ চিকিৎসার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে সরকার ইতোমধ্যে চিকিৎসায় ব্যবহৃত ভাল্ব ও স্টেন্টের ওপর ট্যাক্স মওকুফ করেছে বলেও জানান তিনি।

দেশে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা সম্প্রসারিত হওয়ায় বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা অনেকাংশে কমে এসেছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব ও জনকল্যাণে বর্তমান সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

সরকারের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডে সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে হৃদরোগের সব ধরনের উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। বিগত সময়ের অনিয়ম কাটিয়ে বর্তমান সরকার জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এর আগে মন্ত্রী একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে অংশ নেন এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন।

বিশ্বে ওপেন হার্ট সার্জারির সূচনা হয় ১৯৫৩ সালে ডা. জন হেইশাম গিবনের হাত ধরে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে কার্ডিও-পালমোনারি বাইপাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথম সফল ওপেন হার্ট সার্জারি সম্পন্ন হয়।

ঐতিহাসিক এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিবছর ১৮ সেপ্টেম্বর দেশে ওপেন হার্ট সার্জারি দিবস পালন করা হয়।