স্টাফ রিপোর্টার | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: সর্বশেষ সমন্বয়ের পর দেশে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা হলেও আঞ্চলিক ও এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এখনো ডিজেলের দাম কম। পাশাপাশি উন্নত অনেক দেশের তুলনায়ও দেশে ডিজেলের খুচরা দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কম রয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি মূল্যের তুলনামূলক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল পেট্রোল প্রাইসেসের হিসাবে, প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা ধরে বাংলাদেশে লিটারপ্রতি ১৩৫ টাকার ডিজেলের দাম দাঁড়ায় ১ দশমিক ০৯২ মার্কিন ডলার।
এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মধ্যে পাকিস্তানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৮৫ টাকা ৪৮ পয়সা, ইন্দোনেশিয়ায় ১৭৭ টাকা ৮১ পয়সা, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৭৩ টাকা ২৩ পয়সা, ফিলিপাইনে ১৬৮ টাকা ৫৩ পয়সা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা ৮৩ পয়সা, নেপালে ১৬১ টাকা ২৪ পয়সা এবং চীনে ১৪৬ টাকা ৭৭ পয়সা।
অর্থাৎ এসব দেশগুলোর প্রতিটিতেই ডিজেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় বেশি। ভিয়েতনামে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৭ টাকা, যা বাংলাদেশের চেয়ে ২ টাকা বেশি।
উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশের ডিজেলের দামের পার্থক্য বেশ বড়। হংকংয়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৫৮০ টাকা ৫৪ পয়সা, জার্মানিতে ৩৪৭ টাকা ৮৩ পয়সা, ফ্রান্সে ৩২৯ টাকা ৪০ পয়সা, যুক্তরাজ্যে ৩১৭ টাকা ৭৮ পয়সা এবং সুইডেনে ২৯১ টাকা ৩২ পয়সা।
উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যেও ডিজেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় বেশি। কানাডায় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ২২২ টাকা ৬৯ পয়সা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২০৫ টাকা ২৬ পয়সা। অর্থাৎ কানাডায় বাংলাদেশের চেয়ে ৮৭ টাকা ৬৯ পয়সা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৭০ টাকা ২৬ পয়সা বেশি।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তুলনা করলে দেশের অন্যান্য পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির দামও গড় খুচরা দামের নিচে রয়েছে।
বাংলাদেশে সর্বশেষ অকটেনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৬৫ টাকা। গ্লোবাল পেট্রোল প্রাইসেসের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে অকটেন-৯৫ গ্যাসোলিনের গড় খুচরা মূল্য ছিল প্রতি লিটার ১ দশমিক ৫৭ মার্কিন ডলার। ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা বিনিময় হার ধরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৯৪ টাকা ১২ পয়সা। সে হিসাবে বাংলাদেশে অকটেনের দাম আন্তর্জাতিক গড়ের তুলনায় প্রায় ২৯ টাকা ১২ পয়সা বা ১৫ শতাংশ কম।
একইভাবে দেশে নতুন নির্ধারিত প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১৬০ টাকা, যা আন্তর্জাতিক অকটেন-৯৫ গ্যাসোলিনের গড় দামের তুলনায় প্রায় ৩৪ টাকা ১২ পয়সা বা ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ কম।
কেরোসিনের দামও আন্তর্জাতিক গড়ের নিচে রয়েছে। দেশে নতুন নির্ধারিত প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম ১৫৫ টাকা। গ্লোবাল পেট্রোল প্রাইসেসের ১৪ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে কেরোসিনের গড় খুচরা মূল্য ছিল প্রতি লিটার ১ দশমিক ৩৪ মার্কিন ডলার, যা একই বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ১৬৫ টাকা ৬৯ পয়সার সমান। ফলে বাংলাদেশে কেরোসিনের দাম আন্তর্জাতিক গড়ের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা ৬৯ পয়সা বা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কম।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে আমদানি ব্যয়ের চাপ মোকাবিলা এবং বাংলাদেশ থেকে পাচার ঠেকাতে সরকার দেশের জ্বালানি তেলের দাম সর্বশেষ সমন্বয় করেছে। সংশোধিত দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাংবাদিকদের বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হওয়ায় জ্বালানি তেল প্রতিবেশী দেশে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী দেশে পাচার রোধ এবং সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার স্বার্থেই সরকারকে মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছিল। এই ভর্তুকির চাপ কমানো প্রয়োজন, যাতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রাখা যায়। সর্বশেষ সমন্বয়ের পরও দেশের বাজারে ডিজেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র যাতে পরিবহন ভাড়া বা বিভিন্ন পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার নজরদারি জোরদার করেছে। সাধারণ মানুষের ওপর মূল্য সমন্বয়ের প্রভাব সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে।





