স্টাফ রিপোর্টার | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং অবকাঠামো, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, জ্বালানি ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম জানান, সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি রাষ্ট্রপতির কাছে জাপানের সম্রাট নারুহিতোর একটি অভিনন্দনবার্তা হস্তান্তর করেন। বার্তায় সম্প্রতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান সম্রাট নারুহিতো এবং বাংলাদেশের জনগণের সুখ ও সফলতা কামনা করেন।
অভিনন্দনবার্তার জন্য সম্রাট নারুহিতোকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে জাপানের সম্রাট ও দেশটির জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি সম্রাটের সুস্বাস্থ্য, কল্যাণ ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ঢাকা মেট্রোরেল ও মেঘনা সেতুসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। জাপানের সহযোগিতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার কাজ দ্রুত চালু হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, প্রকল্পটির কাজ দ্রুত শেষ হবে।
জাপানে বাংলাদেশি জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ায় রাষ্ট্রপতি দেশটির প্রতি ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা ও জাপানি ভাষা শেখানোর জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানান। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানের শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ আরও বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে ফল-ফসল ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত এতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে জাপানের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি খাতের অস্থিরতা মোকাবিলা এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সহযোগিতার কথা জানান রাষ্ট্রদূত।
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য জাপানের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর জাপানের অব্যাহত চাপ ও সমর্থন কামনা করেন।
বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূতের ভূমিকার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাপান সফরের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এসব সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও রাজনৈতিক উত্তরণে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বর্তমান সরকারের সঙ্গে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন।





