✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সুইডেনের সহযোগিতা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক এজেন্ডায় রোহিঙ্গা সংকট ধরে রাখা ও বাংলাদেশে সুইডিশ বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার | ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে সুইডেনের সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সাক্ষাৎকালে হুমায়ুন কবির বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সুইডেনের অব্যাহত সহায়তা চান। একই সঙ্গে সংকটটিকে আন্তর্জাতিক এজেন্ডায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

সুইডিশ রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে সুইডেনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারে সুইডেনের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।

আলোচনায় দুই দেশের উন্নয়ন সহায়তা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, ওষুধ, প্রকৌশল ও টেলিযোগাযোগ খাতে সুইডেনের বড় ধরনের বিনিয়োগের আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির।

দুই নেতা স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সুবিধা নিয়েও মতবিনিময় করেন।

গত মাসে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীবিদ্যা অন্তর্ভুক্তকরণবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের যৌথ আয়োজক ছিল বাংলাদেশ ও সুইডেন। এ আয়োজনে সহযোগিতার জন্য সুইডেন সরকারকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে অভিবাসন ইস্যুতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও কারিগরি প্রশিক্ষণে সহযোগিতা বাড়িয়ে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।

নিকোলাস উইকস দায়িত্ব গ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সুইডেনের প্রস্তুতির কথা জানান তিনি। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কারের উদ্যোগগুলোরও প্রশংসা করেন সুইডিশ রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকে উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন এবং আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।