✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮

এক বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারের চেহারা বদলে যাবে: অর্থমন্ত্রী

পুঁজিবাজার পুনরুজ্জীবনে সংস্কার, স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার | ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের চেহারা বদলে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পুঁজিবাজার পুনরুজ্জীবিত ও সম্প্রসারণে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামগ্রিক সংস্কার ও সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বাজারকে শক্তিশালী করা হবে।

আজ রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনসের (আইওএসসিও) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সামগ্রিক উদ্যোগের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী এক বছরের মধ্যে আপনারা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পরিবর্তিত চেহারা দেখতে পাবেন।’

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক) তানভীর শাহরিয়ার গনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাজার শক্তিশালী করতে সরকার ইতোমধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অটোমেশন, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে এসব উদ্যোগ প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে এখন বাস্তবভিত্তিক উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কোনো কোনো অংশীজনের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত অর্থায়নের উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে দেশের আর্থিক কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উচ্চ সুদে ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

বিশ্বমানের অর্থনীতির সঙ্গে তাল মেলাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য বন্ড মার্কেট, ডেরিভেটিভস, সিকিউরিটাইজেশন ও ইক্যুইটি মার্কেটের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়িয়ে বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের শর্তগুলো গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় সরকার আইএমএফ কর্মসূচি বাতিল করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও বৈশ্বিক বাজার থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রতি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা আস্থা প্রকাশ করেছেন।

আমির খসরু বলেন, নিউইয়র্কে ডলার বন্ড এবং হংকংয়ে বাংলাদেশ ডেডিকেটেড ফান্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সামুরাই বন্ড ও প্যান্ডা বন্ডের মতো বৈশ্বিক আর্থিক পণ্যের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অর্থায়ন কাঠামো পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবছর প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। শুধু গতানুগতিক বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে এই বিনিয়োগের চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এ জন্য আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু বিএসইসির একক প্রচেষ্টায় পুঁজিবাজারের উন্নয়ন সম্ভব নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যাংক, বীমা কোম্পানি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিবেদন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, হিসাবরক্ষক, স্টক এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারসহ বাজারের সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

অতীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অনেকটা বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের অভাব দেশের পুঁজিবাজারের অন্যতম প্রধান দুর্বলতা। একটি টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে সব অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ, স্বনিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা গেলে দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে।

অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা করে সময় নষ্ট না করে পুঁজিবাজারের সব অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। সংস্কার কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের আর্থিক কাঠামোর বৃহত্তর পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।