✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮

দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও বাস্তবভিত্তিক নগর পরিকল্পনার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ঝুঁকিসচেতন পরিকল্পনা ও দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণের তাগিদ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলা এবং প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক নগর পরিকল্পনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ নিয়েও আরও বেশি চিন্তা করা প্রয়োজন। ঢাকার অপরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভূমিকম্প হলে শহরটিতে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন শহরে পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থা না থাকার কারণে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার উদাহরণ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাড়িঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে নগর ব্যবস্থাপনা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং নদীদূষণ রোধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

কাঠমান্ডু ও তেহরানের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থা না থাকলে দুর্যোগে প্রাণহানি অনেক বেড়ে যায়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণের কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, ভূমিধস, খরা, বজ্রপাত ও ভূমিকম্পের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে আসছে।

১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ওই দুর্যোগ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা এবং এর ফলে একটি রাষ্ট্রকে কী পরিমাণ মূল্য দিতে হতে পারে, তার বড় উদাহরণ।

বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের দায় অত্যন্ত সামান্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী নানা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

স্বাধীনতার পর থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের অর্জনের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র, স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ফলে দুর্যোগে প্রাণহানি অনেক কমেছে। বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি, উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের সক্ষমতাও বেড়েছে।

তিনি বলেন, এখন শুধু আগাম সতর্কবার্তা দিলেই হবে না, সতর্কবার্তার ভিত্তিতে আগাম পদক্ষেপ নিতে হবে। দুর্যোগ সংঘটিত হওয়ার আগেই প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে এবং দুর্যোগের পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের সমস্যার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁদের বিষয়ে এখনো কোনো আইন প্রণয়ন করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নদীভাঙন, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাবদ্ধতা, অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশদূষণ রোধ, জলাভূমি ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ, ঝুঁকিসচেতন নগর পরিকল্পনা এবং দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানির প্রবাহ ব্যবস্থাপনার জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। বর্তমান সরকারও এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচি আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের সচেতনতার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি সিলেটের হাওর অঞ্চলের মানুষের আগাম প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগাম সতর্কবার্তা প্রদানের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজেদের ঘরবাড়ি নিরাপদ করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের দুর্যোগ প্রস্তুতির আওতায় আনতে হবে। জরুরি কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিরাপদে রাখতে হবে এবং সরকারের আগাম সতর্কবার্তায় দ্রুত সাড়া দিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, নদী-খাল রক্ষা এবং বৃক্ষরোপণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার প্রায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ উদ্যোগ দুর্যোগ মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সম্মিলিতভাবে দুর্যোগ সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সহনশীলতার সূচনা হোক ঘর থেকে। আসুন, ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে চলি এবং দুর্যোগ সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’

এর আগে সকাল ১০টার দিকে রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে স্থাপিত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। বক্তব্যের আগে তিনি ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির শ্রেষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান। অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

এর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশমন বিষয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।