✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮

পণ্যের মান ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে বিএসটিআইয়ের সক্ষমতা বাড়ছে: শিল্পমন্ত্রী

৮৫০ কোটি টাকায় ১৩ তলা ভবন ও ৬৩টি আধুনিক ল্যাব স্থাপন, ১০ জেলায় নতুন পরীক্ষাগার গড়ার উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: পণ্যের সঠিক মান ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর কর্মপরিধি বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বুধবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিএসটিআই আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ বছর বিশ্ব মান দিবসের প্রতিপাদ্য—‘শেয়ার্ড ভিশন ফর আ বেটার ওয়ার্ল্ড—অ্যাফোর্ডেবল অ্যান্ড ক্লিন এনার্জি’। এর ভাবার্থ ‘অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব: সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি’।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, জনগণ অর্থ ব্যয় করে যে পণ্য ব্যবহার করবেন, তার ন্যূনতম সন্তুষ্টি ও গুণগত মান নিশ্চিত করা যেকোনো দায়িত্বশীল সরকারের প্রধান দায়িত্ব। মানুষ যে ভবন বা পরিবেশে বসবাস করবে কিংবা যে খাদ্য ও জ্বালানি ব্যবহার করবে, সেগুলোর মান নিয়ে সংশয় থাকলে সার্বক্ষণিক উদ্বেগ তৈরি হয়। মানুষের নিরাপত্তাবোধ নিশ্চিত করতে বিএসটিআইয়ের জনবল ও সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সারাদেশে সংস্থাটির কার্যক্রম বিস্তৃত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, একজন নাগরিক পেট্রোল পাম্প থেকে তেল বা এলপিজি গ্যাস কেনার সময় যেন নিশ্চিত থাকতে পারেন যে পরিমাপ সঠিক রয়েছে। বাজারে বিক্রি হওয়া দুধ ও জিলাপির মতো খাদ্যপণ্যের বিশুদ্ধতা এবং মান নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে মানুষ যে ভবনে বসবাস করবে, তার নির্মাণসামগ্রীও মানসম্মত হওয়া জরুরি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে বিএসটিআইয়ের কার্যক্রমের পরিধি ক্রমাগত বাড়ানো হচ্ছে। মানুষের মনে নিরাপত্তাবোধ ও সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা যেকোনো দায়িত্বশীল সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বিএসটিআইয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী জানান, সংস্থাটির সক্ষমতা বাড়াতে তিনটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিএসটিআই কমপ্লেক্সে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ তলা ভবন নির্মাণ ও ৬৩টি নতুন আধুনিক পরীক্ষাগার স্থাপন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ১০টি জেলায় নতুন পরীক্ষাগার স্থাপন এবং প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মেট্রোলজি ল্যাব তৈরির প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি অর্জনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মাননিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিএসটিআইয়ের ‘মিউচুয়াল রিকগনিশন’ বা পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে কাজ চলছে। হালাল সার্টিফিকেশনসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও বৈশ্বিক মান অর্জনে বিএসটিআইয়ের উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে।

সয়াবিন তেলে ভারী ধাতু ও সিসা থাকার বিষয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী জানান, বিএসটিআই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষা করেছে। পরীক্ষায় বাজারে থাকা সয়াবিন তেল বিশুদ্ধ এবং এতে কোনো ক্ষতিকর উপাদান নেই বলে দেখা গেছে।

খাদ্যের পূর্ণ বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক।