✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮

এইচএসসিতে এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা ৪ লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ পরীক্ষার পরিকল্পনা

এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ, পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ থেকে ৭ নভেম্বর; ফলাফলে শেখার ঘাটতি চিহ্নিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

স্টাফ রিপোর্টার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ পরীক্ষার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের একটি বছর যেন নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যেই আগামী এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষায় মোট ৫ লাখ ৯ হাজার ৪১৩ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এর মধ্যে একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। এই দুই শ্রেণি মিলিয়ে ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী বিশেষ পরীক্ষার আওতায় আসতে পারেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সাত বা ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নিলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি থেকে যেতে পারে। তাই যথাযথ প্রস্তুতির সুযোগ দিয়ে এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড কাজ করছে।

উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ থেকে ৭ নভেম্বর

এদিকে, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পুনর্নিরীক্ষণের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করা হবে।

তিনি জানান, গত এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়েছিল। পুনর্নিরীক্ষণের পর প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়। অকৃতকার্য অবস্থা থেকে পাস করেন প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী এবং ৩ হাজার ৭৯ জন নতুন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেন।

পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নতুন উদ্যোগ

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম বা অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন তার যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক মূল্যায়ন পায়। কেউ যেন অবমূল্যায়নের শিকার না হয়। আগামী দিনে পরীক্ষার ফলাফল আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বোর্ড কাজ করবে।

শেখার ঘাটতি চিহ্নিত হয়েছে এবারের ফলে

এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফলাফলে শিক্ষার্থীদের শেখার অর্জনে ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে। এ ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

যারা ভালো ফল করেছে তাদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, যারা এবার অকৃতকার্য হয়েছে তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। জীবন এখানেই শেষ নয়। কঠোর প্রস্তুতি নিয়ে আগামী দিনে ভালো ফল করার সুযোগ রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পরীক্ষার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

নিউজ চ্যানেল বিডি।