পোস্টাল ব্যালটে নকশাগত ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলল বিএনপি

প্রবাসী ভোটে প্রভাব ফেলতে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যালট পেপার ডিজাইন করা হয়েছে বলে অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি

বিএনপি অভিযোগ করেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী ভোটারদের জন্য ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটের নকশায় গুরুতর ত্রুটি রয়েছে, যা নির্দিষ্ট প্রতীকের বিরুদ্ধে যেতে পারে। দলটির দাবি, এই নকশা কোনো দৈব ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।

বিএনপি নেতারা বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি সবার আগে তাদের দলই তুলেছিল। সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটের সুযোগ নিশ্চিত করতে সম্মত হয়। এ ব্যবস্থার আওতায় মোট ১৫ লাখ ২৭ হাজার ১৫৫ জন ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার রয়েছেন ৭ লাখ ৬০ হাজারের কিছু বেশি।

অন্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ সরকারি চাকরিজীবী, প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার নির্বাচনী কর্মকর্তা, ১০ হাজার আনসার সদস্য, বিটিভি সদস্য এবং ছয় হাজারের বেশি কারাবন্দী। যদিও এই সংখ্যা মোট ভোটের প্রায় এক শতাংশ বা তার সামান্য বেশি, তবে অনেক আসনে পাঁচ হাজার থেকে দশ হাজার বা তারও বেশি পোস্টাল ভোট রয়েছে, যা বিজয় নির্ধারণে নিয়ামক ভূমিকা রাখতে পারে।

বিএনপির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন প্রবাসী ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠালেও দেশের ভেতরের ভোটারদের কাছে এখনো তা পাঠানো হয়নি। প্রবাসীদের কাছে পাঠানো ব্যালট পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ব্যালট পেপারে পাঁচটি কলাম ও ১৪টি লাইন রাখা হয়েছে। অথচ নির্বাচন সংক্রান্ত আইন বা আরপিওতে ব্যালটের কলাম ও লাইনের সংখ্যা নির্ধারণ করে দেওয়া নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত।

দলটি জানায়, ব্যালট পেপারের প্রথম লাইনে দাড়িপাল্লা, শাপলা ও হাতপাখা প্রতীক থাকলেও বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ রাখা হয়েছে মাঝামাঝি লাইনে। ফলে ব্যালট পেপার ভাঁজ করলে ধানের শীষ প্রতীকটি ভাঁজের অংশে পড়ে গিয়ে অস্পষ্ট হয়ে যায়। এতে প্রতীকের একাংশ এক পাশে ও অন্য অংশ অন্য পাশে চলে যায়, যা ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে।

বিএনপির দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনাররা এ বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন যে প্রতীকগুলো অ্যালফাবেটিক্যালি সাজানো হয়েছে। তবে তাদের মতে, কলাম বা লাইনের সংখ্যা ভিন্ন হলে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। তাই এটি ইচ্ছাকৃতভাবেই করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

সন্ধ্যায় আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিংয়ে এসব বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।