ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে কার্যকর পরিকল্পনার তাগিদ ফখরুলের

দূষণ, জলাবদ্ধতা ও নদীর অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার | ৬ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকার পরিবেশ, দূষণ ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, শুধু আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজধানীকে বসবাসের উপযোগী করে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় ‘দক্ষিণের জানালা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি নতুন উদ্যোগটিকে স্বাগত জানান।

ব্যক্তিগত অনুভূতি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, কখনো কখনো তার মনে হয় ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে বসবাস করবেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ঘর থেকে বের হলেই দূষিত বাতাসের মুখোমুখি হতে হয়। তিনি মনে করেন, নগর সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমের সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু নাগরিকদের সচেতন করলেই ঢাকার সমস্যার সমাধান হবে না। যারা নীতি নির্ধারণ ও নগর পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের পরিকল্পিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। রাজধানীতে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও সাধারণ মানুষ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, তা মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে কার্যকর পরিকল্পনা, জবাবদিহি এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে ফখরুল বলেন, নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, একসময় বুড়িগঙ্গা নদী-তে নৌকায় ঘুরে বেড়ানো যেত। কিন্তু বর্তমানে বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদী-এর পানি এতটাই দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে যে নদীর কাছে যেতেও কষ্ট হয়। তিনি অভিযোগ করেন, নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

এ সময় তিনি রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও অনেক এলাকায় এখনও সঠিকভাবে পানিনিষ্কাশন হচ্ছে না। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়াকে তিনি ঢাকার জন্য একটি বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আবদুস সালাম। এতে আরও বক্তব্য দেন আমিনুল ইসলাম, আইনুন নিশাত, কবিরুল বাশার এবং আদিল মুহাম্মদ খান।