তরুণদের বিভ্রান্তি রোধে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান : রবিন

ইতিহাস জানলেই আগামীর নেতৃত্ব সঠিক পথে যাবে

স্টাফ রিপোর্টার | বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা-৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন বলেছেন, এই এলাকার প্রকৃত ইতিহাস আজকের তরুণ প্রজন্ম জানে না। ফলে তারা বিভ্রান্ত হচ্ছে। এ বিভ্রান্তি রোধে মুরুব্বিদের দায়িত্ব নিতে হবে এবং তরুণদের সামনে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে, কারণ আগামী দিনের নেতৃত্ব তাদের হাতেই।

বুধবার রাজধানীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কদমতলী থানাধীন ৬০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নুরপুর ১ ও ২ নম্বর ইউনিটের আয়োজনে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, “চলুন আমরা ১৯৯১ সালে ফিরে যাই। তখন এই এলাকা ছিল পুরোপুরি গ্রামাঞ্চল। কৃষিজমি, মাছের ঘের আর খেলার মাঠ ছাড়া কিছুই ছিল না। আজ যেখানে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে বুড়িগঙ্গা দেখা যায়, সেখানে তখন কেবল কাজপুর ব্রিজই চোখে পড়ত।”

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-কে নির্মমভাবে হত্যার পর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের মানুষ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে নিয়ে আসে। একজন গৃহিণী হয়েও তিনি দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে দেশজুড়ে ঘুরে বেড়িয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রবিন বলেন, ১৯৮৬ সালে প্রহসনের নির্বাচন হয়েছিল। সে সময় বিরোধী জোট গঠিত হলেও বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন অবস্থান নিয়ে সেই নির্বাচন বর্জন করেন। গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস না করায় জনগণ তাঁকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯১ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ জনগণ বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে। একই সময়ে এই এলাকা থেকে শহীদ জিয়ার আদর্শে গড়ে ওঠা তরুণ নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

রবিন বলেন, বিএনপির আমলেই এ এলাকায় ডেমরা ব্রিজ, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক উন্নয়ন, জিয়া স্মরণী খাল খননসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গড়ে ওঠে। ১৯৯১ সালে খাল খননের উদ্বোধন করেন বেগম খালেদা জিয়া নিজে। সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আজকের নগরায়ণ।

মাতুয়াইলে অবস্থিত মাতৃসদন মা ও শিশু হাসপাতালকে এই এলাকার জন্য ঐতিহাসিক অবদান উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারী ও শিশুদের চিকিৎসাসেবার কথা চিন্তা করেই দেশনেত্রী এই হাসপাতাল নির্মাণ করেছিলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির আমলে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ দেওয়া হলেও গত ১৮ বছরে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। ফলে আজ মানুষ গ্যাস সংকট, পানির সংকট ও লিকেজ সমস্যায় ভুগছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে বিএনপির অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শহীদ জিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আব্দুল লতিফ কলেজ, বর্ণমালা একাডেমি ও শ্যামপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এই এলাকার শিক্ষার ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, নাগরিক সুবিধার অভাবে তরুণরা হতাশ হয়ে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দিকে ঝুঁকছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে কোনো সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী বা কিশোর গ্যাংকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার করেন।

নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে রবিন বলেন, সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ, পাঠাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। নারী, তরুণ ও প্রবীণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করা হবে।

তিনি বলেন, এলাকার শাসন আবার মানুষের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে—মুরুব্বি, আলেম, শিক্ষক, সমাজসেবক ও তরুণদের সম্মিলিত নেতৃত্বের মাধ্যমে।

শেষে তিনি বলেন, “প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়—ঐক্য, গণতন্ত্র ও ন্যায়ের সমাজ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। এই এলাকার মর্যাদা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ ফিরিয়ে আনতে সবার দোয়া ও সহযোগিতা প্রয়োজন।”

এ সময় স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।