স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ই জানুয়ারি ২০২৬| নিউজ চ্যানেল বিডি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গুরুতর অবহেলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের চিকিৎসক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত চিকিৎসক দল খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন মিথোট্রেক্সেট নামের একটি ওষুধ খাওয়াতে থাকেন, যা তার লিভার সিরোসিসকে দ্রুত ত্বরান্বিত করে।
ডা. সিদ্দিকী জানান, তিনি টানা ১২ বছরের বেশি সময় ধরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল এভারকেয়ার হাসপাতালে কোভিড জটিলতা নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর পরীক্ষা করে তারা দেখতে পান, খালেদা জিয়া ইতোমধ্যেই লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। অথচ তার আগের চিকিৎসায় নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট খারাপ আসার পরও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, “লিভার ফাংশন টেস্ট ধারাবাহিকভাবে খারাপ থাকলেও দেড় বছরে একটি আল্ট্রাসোনোগ্রাফিও করা হয়নি। একজন খালেদা জিয়ার মতো রোগীর ক্ষেত্রে এটি অবিশ্বাস্য অবহেলা।”
ডা. সিদ্দিকী বলেন, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় মিথোট্রেক্সেট ব্যবহার করা হয় ঠিকই, তবে এই ওষুধ গ্রহণকারীদের নিয়মিত লিভার পর্যবেক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। সেই প্রটোকল মানা হয়নি বলেই ফ্যাটি লিভার দ্রুত সিরোসিসে রূপ নেয়।
তিনি আরও বলেন, আদালতে জমা দেওয়া সরকারি চিকিৎসকদের রিপোর্টে খালেদা জিয়ার লিভার রোগের কোনো উল্লেখই ছিল না, যা সত্য গোপনের শামিল। “এটি ছিল ইচ্ছাকৃত অবহেলা (Willful Negligence) এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ,” মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. সিদ্দিকী দাবি করেন, খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসাতেও অবহেলার প্রমাণ রয়েছে। তিনি এই চিকিৎসা অবহেলা একটি সুপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টার অংশ কি না—তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
এ কারণে তিনি তিনটি বিষয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান—
১) সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য কারা ছিলেন ও তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ছিল কি না
২) চিকিৎসাকালে কোন কোন চিকিৎসক জড়িত ছিলেন এবং অবহেলার প্রমাণ আছে কি না
৩) ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে না দেওয়ার পেছনে কারা বাধা দিয়েছিল
সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) চিকিৎসা সংক্রান্ত সব নথি আইনগতভাবে জব্দ করার দাবি জানান তিনি।





