স্টাফ রিপোর্টার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে সংসদ ভবন এলাকায় আজ একটি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।
স্মরণসভায় তারেক রহমানকে নীরব ও গম্ভীর ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখা যায়। মায়ের স্মরণসভায় তিনি কিছুটা বিমর্ষ ছিলেন বলে উপস্থিতদের অনেকে মন্তব্য করেন। এ সময় তারেক রহমানের এক পাশে তার স্ত্রী এবং অন্য পাশে তার কন্যা উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনজুড়ে পরিবেশ ছিল শান্ত ও সংযত।
স্মরণসভায় বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, দলীয় নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্র-সংগ্রামে তার ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তার দুই সন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পারিবারিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে দল ও পরিবারের সদস্যদের ওপর নানা চাপ ও মামলার প্রসঙ্গও আলোচনায় উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর কথাও স্মরণ করেন এবং উল্লেখ করেন যে পরিবারগতভাবেও একাধিক বেদনাদায়ক সময় পার করতে হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের পরিবারকে। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, প্রবাসে থেকেও তারেক রহমান দলীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন এবং সাংগঠনিকভাবে দলের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন।
স্মরণসভায় বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে জানান, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় তিনি একই হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
এর আগে ২১ নভেম্বর ২০২৫ বেগম খালেদা জিয়া সেনা কুঞ্জে আয়োজিত সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অসুস্থতার মধ্যেও ওই অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
এদিকে স্মরণসভা ও সাম্প্রতিক আলোচনায় তার চিকিৎসা নিয়েও প্রশ্ন উঠে এসেছে। বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের চিকিৎসক ডা. এফ এম সিদ্দিকী অভিযোগ করেছেন, তার চিকিৎসায় গুরুতর অবহেলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত চিকিৎসক দল দীর্ঘদিন মিথোট্রেক্সেট নামের একটি ওষুধ ব্যবহার করায় তার লিভার সিরোসিস দ্রুত ত্বরান্বিত হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট খারাপ থাকলেও পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়নি।
ডা. সিদ্দিকীর অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতে জমা দেওয়া সরকারি চিকিৎসকদের রিপোর্টে খালেদা জিয়ার লিভার রোগের উল্লেখ ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি এ বিষয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানান এবং তদন্তের স্বার্থে বিএমইউ-এর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি আইনগতভাবে জব্দ করার দাবি তোলেন।
স্মরণসভা শেষে উপস্থিত নেতাকর্মী ও অতিথিরা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তার রাজনৈতিক জীবন ও অবদান স্মরণ করেন।





