সঠিক ইতিহাস চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে: ইশরাক

খাজা সলিমুল্লাহ ও খাজা পরিবারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নগর উন্নয়নে অবদান তুলে ধরার আহ্বান

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানী ঢাকার সার্বিক উন্নয়নে নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ ও তাঁর পরিবারের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

তিনি বলেন, একটি জাতির মেরুদণ্ড হচ্ছে তার শিক্ষা ব্যবস্থা, আর বাংলাদেশের শিক্ষার মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আহসান মঞ্জিলে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর জন্ম-মৃত্যু বার্ষিকীর জাতীয় উদ্যাপন কমিটির উদ্যোগে নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুরের ১১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকার আধুনিক নগরায়ণের পেছনে খাজা পরিবারের অবদান অত্যন্ত গভীর। ১৮৭৪ সালের ৬ আগস্ট ঢাকায় ‘ঢাকা ওয়াটার ওয়ার্কস’ প্রতিষ্ঠা করা হয় খাজা আব্দুল গনির অর্থায়নে, যা আজকের ওয়াসার ভিত্তি। একইভাবে ঢাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রাথমিক উদ্যোগও গ্রহণ করেছিলেন এই পরিবার।

তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহর। অথচ দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এই ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।

ইশরাক হোসেন বলেন, “আমরা যদি নিজেদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অবদান না জানি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।”

তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাসকে রাজনৈতিকভাবে বিকৃত করা হয়েছে এবং যাঁদের যথাযথ সম্মান পাওয়ার কথা ছিল, তাঁদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সঠিক ইতিহাস চর্চা ও ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহর শিক্ষা, সমাজসেবা ও নগর উন্নয়নের যে আদর্শ, তা বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে। খাজা পরিবার তাঁদের বিপুল সম্পত্তি জনগণের কল্যাণে দান করেছেন, যার অবদান আজকের ঢাকা ও বাংলাদেশের ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইশরাক হোসেন তাঁর প্রয়াত পিতা সাবেক মেয়র মরহুম সাদেক হোসেন খোকার উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন। তিনি জানান, ২০০৩ সালে একটি গবেষণা কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণামূলক তথ্যসমৃদ্ধ একটি পুস্তক প্রকাশিত হয়।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ এলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তা সঠিকভাবে উপস্থাপনে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঢাকায় জন্ম নেওয়া একজন সন্তান হিসেবে শহরের ইতিহাস নিয়ে গর্ব করার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, নিজেদের ইতিহাসকে অবহেলা করে অন্য দেশের ইতিহাস নিয়ে গর্ব করা উচিত নয়। বরং নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহর মতো ব্যক্তিত্বদের অবদান দেশে-বিদেশে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঠিক চর্চা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করব। যাঁদের যে সম্মান প্রাপ্য, তাঁদের সেই সম্মান দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।”

অনুষ্ঠানে নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুরের প্রপৌত্র খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিব-এর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. শরীফ উদ্দিন, নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুরের নাতি খাজা আহসান উল্লাহ সানি, প্রপৌত্র খাজা সাইফুল্লাহ, নবাব স্যার সলিমুল্লাহর জন্ম-মৃত্যু বার্ষিকীর জাতীয় উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ড. মোঃ আলমগীর, মহাসচিব হাজী মোঃ ফরহাদ রানা সহ অন্যান্যরা।