স্টাফ রিপোর্টার | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, নিজের কথা বা শব্দমালায় তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে পারবেন না।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “বীর চির উন্নত মম শির”—জুলাইয়ে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের মাথা চিরুন্নত। তারা এই জাতির, এই দেশের, এই সময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ বীর।
শহীদ পরিবারের কষ্টের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তাদের হৃদয় নিংড়ানো কান্না ও বেদনা তিনি অনুভব করেন। তবে এই আত্মত্যাগের বিনিময়েই জাতি আজ মুক্তির স্বাদ পেয়েছে।
তিনি বলেন, “আগে কোনো অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে বের হলে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হতো—ডিবি পুলিশ ধরবে কিনা, গোয়েন্দা পুলিশ আক্রমণ করবে কিনা। আজ আমরা নির্ভয়ে বাইরে বেরোতে পারছি, কথা বলতে পারছি, সভায় বক্তব্য রাখতে পারছি—এই স্বাধীনতার অবদান জুলাই শহীদদের।”
নির্দিষ্টভাবে শহীদ আহনাফ, আবু সাঈদ ও মুগ্ধের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগেই আজ এই পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
আলফ্রেড টেনিসনের কবিতার উদাহরণ টেনে রিজভী বলেন, জুলাই মাসে মৃত্যুর এক মহিমান্বিত রূপ দেখা গেছে। চারদিকে গুলি ও লাশের মধ্যেও শহীদ মুগ্ধ আহত অবস্থায় বলেছিলেন—“পানি লাগবে”—এ দৃশ্য মৃত্যুর উপত্যকা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক।
তিনি বলেন, এই তরুণরা হৃদয়ে একটি আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেই সামনে এগিয়ে গিয়েছিল—মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা।
বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের প্রথম শিকার ছিলেন তারেক রহমান ও তার পরিবার। বছরের পর বছর জেল, নির্যাতন ও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে গোটা জিয়া পরিবারকে যেতে হয়েছে।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তিনি দীর্ঘ সময় কারাবন্দি ছিলেন। পুরো পরিবার একটি ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী নিপীড়নের মধ্যে বন্দি ছিল।
বক্তব্যের শেষাংশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না। তাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই বাংলাদেশ গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা ও স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যাবে।





