আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সংসদে হট্টগোল, সেই দিনই ৬৪ জেলায় নতুন দায়িত্ব পেলেন ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ

উন্নতি না অবনতি, তা নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্কের মধ্যেই ৬৪ জেলার সার্বিক পরিস্থিতি তদারকিতে নতুন দায়িত্ব বণ্টন

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির

নিউজ চ্যানেল বিডি ডেস্ক | ঢাকা

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে যখন তীব্র বিতর্ক ও বাকবিতণ্ডা চলছে, ঠিক সেই দিনই দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলো ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলাকালে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য হয়। সরকার দাবি করে, গত কয়েক মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের সদস্যরা মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

এর মধ্যেই একই দিনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা দেশের ৬৪ জেলার দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপের মধ্যে বণ্টন করে গেজেট জারি করে।

দায়িত্বপ্রাপ্তরা যা করবেন

গেজেট অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তদারকি করবেন।

এর মধ্যে রয়েছে:

  • আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি
  • দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ
  • গুরুতর অপরাধ দমন
  • চোরাচালান প্রতিরোধ
  • সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ
  • সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি
  • দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ

প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও কর্তৃপক্ষকে পরামর্শও দেবেন।

কে কোন জেলার দায়িত্ব পেলেন

১. ইকবাল হাসান মাহমুদ
রাজশাহী ও নাটোর

২. ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন
লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়

৩. আব্দুল আউয়াল মিন্টু
লক্ষ্মীপুর

৪. নিতাই রায় চৌধুরী
চুয়াডাঙ্গা

৫. খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
হবিগঞ্জ

৬. আরিফুল হক চৌধুরী
মৌলভীবাজার

৭. মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি
চট্টগ্রাম

৮. এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা

৯. আসাদুল হাবিব দুলু
ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর

১০. মো. আসাদুজ্জামান
খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট

১১. জাকারিয়া তাহের
ফেনী ও নোয়াখালী

১২. সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল
মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ

১৩. সাচিং প্রু
কক্সবাজার

১৪. মো. শরীফুল আলম
টাঙ্গাইল ও নরসিংদী

১৫. শামা ওবায়েদ ইসলাম
মাদারীপুর ও শরীয়তপুর

১৬. অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ

১৭. আব্দুল বারী
বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ

১৮. সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
ঢাকা

১৯. মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন
খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি

২০. হাবিবুর রশিদ
গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ

২১. মো. রাজীব আহসান
বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর

২২. মীর শাহে আলম
রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম

২৩. ফারজানা শারমিন
সিরাজগঞ্জ ও পাবনা

২৪. শেখ ফরিদুল ইসলাম
যশোর, মাগুরা ও নড়াইল

২৫. ইয়াসের খান চৌধুরী
জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ

২৬. আহমেদ সোহেল মঞ্জুর
বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি

২৭. মোহাম্মদ শামীম কায়সার
জয়পুরহাট ও নওগাঁ

২৮. আলহাজ্ব মো. জি কে গউছ
সিলেট ও সুনামগঞ্জ

২৯. মিয়াঁ নুরুদ্দিন আহম্মেদ
রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ

৩০. এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর

একই দিনে দুই চিত্র

একদিকে সংসদে সরকারের দাবি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রশ্ন, মাঠপর্যায়ে বাস্তব পরিস্থিতি আসলে কতটা নিয়ন্ত্রণে।

এই বিতর্কের মধ্যেই সরকার দেশের প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পর্যন্ত রাজনৈতিক পর্যায়ে সরাসরি তদারকির নতুন কাঠামো তৈরি করল।

তবে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যে সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা বা হট্টগোলের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে

সংসদে সরকার বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান। কিন্তু একই দিন দেশের ৬৪ জেলার সার্বিক পরিস্থিতি তদারকিতে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হলো।

তাহলে কি এটি শুধুই প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন, নাকি মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা ও সরকারি কার্যক্রমের ওপর আরও নিবিড় রাজনৈতিক তদারকির প্রয়োজন অনুভব করেছে সরকার?

সংসদের বিতর্ক এবং সরকারের এই দায়িত্ব বণ্টন, একই দিনের এই দুই ঘটনা এখন নতুন করে সেই প্রশ্নই সামনে আনছে।