স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসনামলে রাষ্ট্র গণমাধ্যমের দিকে চোখ রাঙিয়ে কথা বলত। কিন্তু বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত সমস্যা সমাধানে প্রকৃত ‘সহযোগী অংশীদার’ হিসেবে কাজ করতে চায়।
মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবস। গণমাধ্যমের সংকট এবং সাংবাদিকতা পেশার কালো পরিবেশ এখন একাকার হয়ে গেছে। তাই শুধু ৫০ বছর আগের ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা না করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল মাধ্যমের নতুন বাস্তবতা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।”
ইতিহাসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল এবং সেই সময় গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়। তিনি বলেন, জনগণের কণ্ঠস্বর ও ক্ষোভ দমিয়ে রাখতেই সে সময় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির বিকাশের ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সহজেই সত্য কিংবা বিকৃত তথ্য তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে এআই-নির্ভর তথ্যপ্রবাহের নতুন বাস্তবতা বুঝে কার্যকর সমাধান বের করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, নাগরিক সাংবাদিকতা বা ‘সিটিজেন জার্নালিজম’-এর বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বরং এটিকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের গৃহীত বিভিন্ন আইনের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “সরকার যতই স্বাধীনতা দিক না কেন, মিডিয়া মালিকরা যদি সঠিক বেতন-ভাতা ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না করেন, তাহলে সাংবাদিকরা প্রকৃত অর্থে স্বাধীন হতে পারবেন না।”
তিনি বলেন, যে গণমাধ্যম নিজেকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করবে, তাকে দেশের প্রচলিত আইন মেনে পরিচালিত হতে হবে এবং কর্মীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে জনকল্যাণে পরিচালিত গণমাধ্যমগুলোকে রাষ্ট্র বিশেষ প্রণোদনা ও সহযোগিতা দিতে পারে।
তথ্যমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে এডিটরস কাউন্সিল, টেলিভিশন অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। খুব শিগগিরই আধা-বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যম যদি সঠিক নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতে পারে, তাহলে রাষ্ট্র ও সরকার ভুল করার সুযোগ পাবে না এবং দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম। এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও বাংলা ভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেলসহ বিভিন্ন সাংবাদিক নেতা বক্তব্য দেন।





