স্টাফ রিপোর্টার | ১ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল ও জবাবদিহিমূলক করতে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন করে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন আইনে উত্তরপত্র মূল্যায়নে অবহেলা বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদেরও কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।
বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে র্যান্ডম স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। পরীক্ষকেরা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করছেন কি না, অতিরিক্ত বা কম নম্বর দিচ্ছেন কি না—তা শিক্ষা বোর্ডগুলো নিয়মিত যাচাই করবে। কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পরীক্ষকদের ওপর চাপ কমাতে এবার পরীক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং জনপ্রতি মূল্যায়নের জন্য বরাদ্দ খাতার সংখ্যাও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ড. মিলন জানান, সংশোধিত আইনে প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি ও পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। শিক্ষক বা পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্নফাঁসের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিন সেট প্রশ্নপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন শিক্ষাক্রম প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ২০২৭ সালে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। তবে ২০২৮ সাল থেকে নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফল প্রকাশের পর দ্রুত ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ইন-হাউস কোচিং’ বা অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা এবং বেসরকারি কোচিং সেন্টারগুলোকে নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





