এক চুক্তিতেই কেল্লাফতে: ১ লাখ কামিকাজে ড্রোন রপ্তানির খবরে তুর্কি কোম্পানির শেয়ারে ঝড়

বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তি, সম্ভাব্য ক্রেতা নিয়ে জোর আলোচনা

স্টাফ রিপোর্টার, ৮ মে ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

তুরস্কের প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতের প্রতিষ্ঠান Pasifik Teknoloji সম্প্রতি একটি “বন্ধু ও মিত্র” দেশের সঙ্গে বিশাল ড্রোন রপ্তানি চুক্তি করেছে। চুক্তির আওতায় প্রায় ১ লাখ FPV কামিকাজে ড্রোন সরবরাহ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। খবর প্রকাশের পরই ইস্তাম্বুল স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ারের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়।

তুর্কি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিতে শুধু FPV ড্রোনই নয়, আরও বেশ কয়েকটি আধুনিক আনম্যানড যুদ্ধ সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০টি ALPİN আনম্যানড হেলিকপ্টার, ২৫টি DUMRUL মিনি হেলিকপ্টার, ৫০০ DELİ ট্যাকটিক্যাল কামিকাজে সিস্টেম এবং ৫০০ KORGAN স্বয়ংক্রিয় গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইউনিট।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি তুরস্কের ড্রোন রপ্তানি ইতিহাসের অন্যতম বড় সামরিক চুক্তি হতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারে তুরস্ক ইতোমধ্যেই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বিশেষ করে Baykar, Aselsan ও Pasifik Teknoloji এর মতো কোম্পানিগুলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দ্রুত বাজার সম্প্রসারণ করছে।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন, কোন দেশ এই বিশাল ড্রোন অর্ডার দিয়েছে?

এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সামরিক ফোরামগুলোতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ও ।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান সম্ভাব্য ক্রেতা হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দুই দেশ যৌথভাবে নৌ ও বিমান প্রতিরক্ষা প্রকল্পে কাজ করছে। এছাড়া ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতি এবং আধুনিক ড্রোন যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা পাকিস্তানকে বড় আকারের FPV ও কামিকাজে ড্রোন সংগ্রহে আগ্রহী করে তুলতে পারে।

অন্যদিকে, আজারবাইজানও সম্ভাব্য ক্রেতার তালিকায় রয়েছে। নাগোর্নো-কারাবাখ সংঘাতের সময় তুর্কি ড্রোন ব্যবহারে বড় সফলতা পাওয়ার পর দেশটি নিয়মিতভাবে নিজেদের ড্রোন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। তুরস্কের সঙ্গে আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্কও এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১ লাখ ড্রোনের মতো বিশাল অর্ডার সাধারণত এমন দেশই দেয়, যারা ভবিষ্যৎ যুদ্ধ কৌশলে “লো-কস্ট mass drone warfare” সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে চুক্তিটি শুধু বাণিজ্যিক নয়, আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।