এডিআরের ইতিবাচক ব্যবহারে মামলা দায়ের ৬২ শতাংশের বেশি কমেছে: আইনমন্ত্রী

মামলা জট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে জোর, সম্পত্তি আইনে ভোগাধিকার যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানালেন মো. আসাদুজ্জামান।


স্টাফ রিপোর্টার | ৩০ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: দেশে দীর্ঘদিনের মামলা জট নিরসন এবং সাধারণ মানুষের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থার ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং এডিআরের কার্যকর ব্যবহারের ফলে ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালের চলমান সময়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি আইনের আওতায় মামলা দায়েরের হার ৬২ শতাংশের বেশি কমেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর (ডিবিএলএ)-এর সঙ্গে ব্লাস্ট ও ব্র্যাকের পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা বিচারব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এই মামলা জট কমাতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে দেশে সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়, যা ২০০১ সালে আইনে পরিণত হয়। বর্তমান সরকার সেই আইনকে আরও যুগোপযোগী করেছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের একার পক্ষে এই বিশাল কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তাই ব্লাস্ট ও ব্র্যাকের মতো অভিজ্ঞ বেসরকারি সংস্থার দক্ষতা ও তৃণমূল পর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। পাশাপাশি জাইকা, জিআইজেড এবং ইউএনডিপির মতো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরাও এডিআর কার্যক্রম জোরদারে সহায়তা করছে।

মালয়েশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে দেশটি অল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে মামলা জট কমাতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশেও মামলা দায়েরের আগে (প্রি-ট্রায়াল) এবং বিচারাধীন (পোস্ট-ফাইলিং) উভয় পর্যায়ে এডিআরের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জমিজমা সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা কমাতে সরকার সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংস্কারের পরিকল্পনা করছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, দানপত্র বা গিফটের ক্ষেত্রে ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ (ভোগাধিকার) যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পিতা-মাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগদখল নিজেদের কাছে রাখতে পারবেন এবং তাঁদের অনুমতি ছাড়া সম্পত্তি বিক্রি করা যাবে না। এতে পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধ ও দেওয়ানি মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আইনগত সহায়তা বিষয়ে তিনি বলেন, অর্থের অভাবে কোনো নাগরিক যেন বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সম্প্রতি আলোচিত কয়েকটি ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারকে সরকারি খরচে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস, অতিরিক্ত সচিব এস. এম. এরশাদুল আলম, আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন, ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্র্যাকের সেল্প কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।