এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটিতে মোট ২৪২ জন যাত্রী ছিলেন। এদের মধ্যে ৫৯ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে ৫৩ জন ব্রিটিশ, ৭ জন পর্তুগিজ এবং ১ জন কানাডিয়ান নাগরিক ছিলেন। বাকি ১৬৯ জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন।

১২ জুন ২০২৫ তারিখে ভারতের আহমেদাবাদ শহর থেকে লন্ডন গ্যাটউইকগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় বিমানটিতে থাকা প্রায় ২৪২ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। আজ দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে (ভারতীয়…

Posted by:

on

১২ জুন ২০২৫ তারিখে ভারতের আহমেদাবাদ শহর থেকে লন্ডন গ্যাটউইকগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় বিমানটিতে থাকা প্রায় ২৪২ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।

আজ দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে (ভারতীয় সময়) আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডন গ্যাটউইকের উদ্দেশ্যে এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট AI 171 (বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার) উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমানটি এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (ATC)-এর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং বিমানবন্দরের সীমানার বাইরে মেঘানিনগর আবাসিক এলাকার কাছাকাছি বিধ্বস্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই দুর্ঘটনাস্থল থেকে কালো ধোঁয়া দেখা যায় এবং একটি বিশাল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিমানটিতে মোট ২৪২ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য ছিলেন। এদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয় নাগরিক, ৫৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক, ৭ জন পর্তুগিজ নাগরিক এবং ১ জন কানাডিয়ান নাগরিক ছিলেন। বিমানটির ক্যাপ্টেন সুমিত সাবারওয়াল এবং কো-পাইলট ক্লাইভ কুন্ডার ছিলেন।
উদ্ধার অভিযান ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া:
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা দল দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। উদ্ধার অভিযান দ্রুত শুরু হয়। আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আহমেদাবাদ বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সকল ফ্লাইট অপারেশন স্থগিত রাখা হয়েছে।
কারণ অনুসন্ধান:
বিমান বিধ্বস্তের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, জানা গেছে যে বিমানটি উড্ডয়নের পরপরই “মেডে” (Mayday) কল করেছিল, কিন্তু এরপরে ATC-এর সাথে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারেনি। বিমানটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলের ছিল, যা অতীতে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারের চেষ্টা চলছে, যা ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার ধারণ করে। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (DGCA) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী রাম মোহন নাইডুকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রী নিজেই আহমেদাবাদে যাচ্ছেন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সরাসরি তত্ত্বাবধানের জন্য। এয়ার ইন্ডিয়া একটি জরুরি সহায়তা কেন্দ্র চালু করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সহায়তা দল গঠন করেছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারও এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।