স্টাফ রিপোর্টার | ০৪ আগস্ট ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: দেশে চলমান গ্যাস সরবরাহ সংকটের কারণে সৃষ্ট বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রম তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রমে দুর্ঘটনার কারণে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। তবে টার্মিনালটির কার্যক্রম ধাপে ধাপে স্বাভাবিক হলে গ্যাসের সংকটও পর্যায়ক্রমে কমে আসবে এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উন্নতি ঘটবে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ঢাকার বাইরে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। সরকার নাগরিকদের দুর্ভোগ সম্পর্কে অবগত এবং সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেই পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। দেশীয় উৎপাদনের ঘাটতি পূরণে এলএনজির ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। বর্তমানে পরিচালিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি পরিচালিত টার্মিনালে সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় সেটি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, গ্যাসের এই ঘাটতির প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ি এবং সিএনজি স্টেশনেও পড়েছে। অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রান্নাবান্নায়ও সমস্যা হচ্ছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গ্যাস সংকটে বন্ধ বা সীমিতভাবে পরিচালিত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
তিনি বলেন, সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যয়বহুল ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রেখেছে। অতিরিক্ত ব্যয় বহন করেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপরও কিছু এলাকায় লোডশেডিং এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি জেনেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনালটি ধাপে ধাপে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে। এর ফলে অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাহিদা কমবে এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ—উভয় সংকটই ধীরে ধীরে কেটে যাবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সংকটের পেছনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপে এলএনজির চাহিদা ও মূল্য বেড়ে গেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে।
ড. জাহেদ উর রহমান জানান, সরকার দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করেছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে চলছে।
তিনি দেশের মানুষকে ধৈর্য ধরার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা, ব্যাকআপ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদেশি জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার কাজ করছে। এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বর্তমান সংকট ধাপে ধাপে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।





