স্টাফ রিপোর্টার | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের চলমান বিভিন্ন সংকটকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী আমল কিংবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া নানা সমস্যার সমাধানে বর্তমান সরকার কাজ করছে। সমস্যা রয়েছে—এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এসব সমস্যাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধারণ করে বিকেল পৌনে ৪টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়।
গণতন্ত্রের ধারা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার গণতন্ত্রের ধারা সমুন্নত রাখা এবং গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
তিনি বলেন, কেউ যদি দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তা নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশের আইন রয়েছে। জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে প্রত্যেককে আইন ও নিয়মের সীমার মধ্যে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে দুঃখ প্রকাশ
দেশের প্রতিটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি জনগণের পাশে ছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় কাজ করেছে এবং দেশকে সংকট থেকে বের করে আনতে ভূমিকা রেখেছে।
বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভোগান্তিতে থাকা শিল্পকারখানার মালিক ও সাধারণ মানুষের কাছে দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যাতে দেশের মানুষকে এমন জ্বালানি সংকটে পড়তে না হয়, সে লক্ষ্যে বিএনপি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে।
‘গুপ্ত’ শক্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্বৈরাচারী শাসনামলে কিছু রাজনৈতিক দল ‘গুপ্ত’ বেশ ধারণ করে স্বৈরাচারের ভেতরে লুকিয়ে ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তারাই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা উসকে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, এমনও হতে পারে যে, স্বৈরাচারের আড়ালে যারা লুকিয়ে ছিল, তাদের ভেতরে এখনো স্বৈরাচারী শক্তি অবস্থান করছে এবং তারা দেশে অরাজকতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণকে আরও সচেতন করতে হবে এবং কারা কাকে আড়াল করছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
‘মানবিক রাষ্ট্র গড়তে চায় বিএনপি’
তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী রাজনৈতিক দল বিএনপি। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে বিএনপি সবসময় ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত হবে।
জিয়া ও খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন, রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ এবং নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার প্রসারে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করে দেশ গঠনে তাদের সম্পৃক্ত করেছিলেন। এছাড়া তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
২০২৪ সালের আন্দোলনের কৃতিত্ব আমজনতার
গত ১৬-১৭ বছরে সরকারের নির্যাতন ও দমন-পীড়নের মধ্যেও বিএনপি রাজপথে থেকে আন্দোলন চালিয়ে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’ এবং সফলতার পূর্ণ কৃতিত্ব দেশের সাধারণ মানুষের।
তিনি বলেন, আমজনতার সঙ্গে থেকেই বিএনপি সেই আন্দোলনকে সফল করতে ভূমিকা রেখেছে।
আলোচনা সভায় নেতাদের উপস্থিতি
বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম, ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভার শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দলের সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পরে জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং জাতীয়তাবাদী দলের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত মঙ্গলবার শুরু হওয়া পাঁচদিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শনিবারের আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।





