স্টাফ রিপোর্টার | ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরকে কেন্দ্র করে তাঁর জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শহরের কোলাহলেই কেটেছে তাঁর শৈশব-কৈশোর। যে শহরের অলিগলি, বাজার-পাড়া ও রাস্তাঘাট তাঁর চেনা, সেই শহরই এখন ব্যস্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁকে বরণ করে নিতে।
আগামীকাল রোববার প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজ মাটি ঠাকুরগাঁও সফরে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসবের আয়োজন।
কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ, কোথাও চলছে আলোকসজ্জার কাজ। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের যেন দম ফেলার সময় নেই। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে তুলতে দিন-রাত কাজ করছেন পৌরসভার কর্মীরা।
সব মিলিয়ে এলাকার প্রিয় সন্তানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ শহরে বরণ করে নিতে প্রস্তুত ঠাকুরগাঁওবাসী। শহরের পথে পথে এখন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগমনের প্রতীক্ষা। প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস।
দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আগামী রোববার ও সোমবার দুই দিনের সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাষ্ট্রীয় এই সফর ঘিরে প্রশাসনের নানা প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও আবেগও চোখে পড়ার মতো।
কারও কাছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় রাজনীতির সুপরিচিত মুখ, কারও কাছে তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা। আবার ঠাকুরগাঁওয়ের অনেকের কাছে তিনি আজও পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’—নিজ শহরের আপনজন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ শেকড়ের টানে নিজ মাটিতে ফিরে আসা ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়; এটি একই সঙ্গে গর্ব, আনন্দ, ভালোবাসা ও গভীর আবেগের মুহূর্ত।
প্রথম দিনের কর্মসূচি
রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, সফরের প্রথম দিন রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি জেলা সার্কিট হাউসে যাবেন এবং সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।
এরপর রাষ্ট্রপতি শহরের সেনুয়া পাড়ার পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) এবং মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন।
কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি শহরের কালীবাড়িতে তাঁর নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রামের পর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
সংবর্ধনা শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেখানেই তাঁর রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি
সফরের দ্বিতীয় দিন রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম করবেন। পরে তিনি সার্কিট হাউসে যাবেন। এরপর হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করার কথা রয়েছে তাঁর।
জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা
রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।
সফরের সম্ভাব্য স্থান, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, “তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি নন, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি নিজের মানুষের কাছে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত।”
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ, গর্ব ও আবেগের বিষয়।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর সফরকে ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
সফর সফল করতে প্রশাসনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির সফরের প্রতিটি কর্মসূচি, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।
এসপি আরও বলেন, এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের চলাচল ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।





