গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যাহত হলে গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে: শামসুজ্জামান দুদু

১৬–১৮ বছরের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন; বর্তমান সরকারের ওপর ঐতিহাসিক দায়িত্ব—বলেন বিএনপির এই নেতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৫জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি


আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির নেতা শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, এই দেশে একটি ভালো নির্বাচনের দাবিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ মামলা-হামলার শিকার হয়েছে, কষ্ট পেয়েছে, অনেকে শহীদ হয়েছেন এবং অনেকে গুম হয়েছেন।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে টানা ১৬ থেকে ১৮ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য। “আজ তার স্মরণে এই কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আমাদের মাঝে নেই—আমি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি এবং আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন,” বলেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এই দীর্ঘ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল সারা দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা। “আমরা আগেই বলেছিলাম, নির্বাচন খুব বেশি দেরি নয়—আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এটি অনুষ্ঠিত হবে,” উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বক্তব্য প্রসঙ্গে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সরকারের সঙ্গে যাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, সেই দল এনসিপি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-এর কথা বলছে। “আমি তাদের সঙ্গে একমত। স্বচ্ছ, স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবার জন্য সমান সুযোগ থাকা অত্যন্ত জরুরি,” বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, যাদের সরকারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে, তারা চাইলে সরকারের সঙ্গে বসে ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে আলোচনা করে তা সমাধান করতে পারে। “তা না হলে জনগণ প্রশ্ন তুলবে—এই কথাগুলো কি কেবল বলার জন্যই বলা হচ্ছে?” বলেন তিনি।

বর্তমান সরকারের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আপনি এমন একটি জায়গায় বসে আছেন, যেদিকে সারা দেশ ও সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে। শেখ হাসিনা গায়ের জোরে ক্ষমতায় থেকেছেন, কিন্তু একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে পারেননি।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, “যিনি গণহত্যার নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনি কখনো জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেন না। সেই ব্যর্থতার দায় এখন বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়েছে।”

শামসুজ্জামান দুদু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই নির্বাচনে যদি কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বিঘ্নিত হবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।”

তিনি আরও বলেন, একটি পার্শ্ববর্তী দেশ চায় না বাংলাদেশ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটাক। “এ জন্য আমাদের সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে,” বলেন বিএনপির এই নেতা।