জামায়াতের কর্মীদের বিরুদ্ধে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ: মির্জা ফখরুল

পোস্টাল ব্যালট, ভোটার স্থানান্তর ও আচরণবিধি লঙ্ঘনে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে জরুরি ব্যবস্থা চায় বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার |১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কপি, বিকাশ নম্বর ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এটি সরাসরি আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং এর বিরুদ্ধে আগেই নির্বাচন কমিশনে আপত্তি জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশন অনেক ক্ষেত্রেই তাদের কার্যকলাপের মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ করছে। বিশেষ করে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়টি এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।”

তিনি জানান, বিদেশে নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানো এবং ব্যালট পেপার মুদ্রণ পদ্ধতি নিয়ে বিএনপির গুরুতর আপত্তি রয়েছে। তার ভাষায়, “এই ব্যালট পেপার সঠিক নয়। এতে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটও দলীয় প্রতীক বরাদ্দের পর বিতরণ করার দাবি জানানো হয়েছে, যাতে সাধারণ ব্যালটের মতো সঠিকভাবে ভোট দেওয়া নিশ্চিত হয়।

আরও অভিযোগ করে তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় একটি রাজনৈতিক দল অনৈতিক কৌশলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভোটার স্থানান্তর করে ঢাকার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। “কতজন ভোটার, কোন এলাকা থেকে, কী কারণে স্থানান্তর করা হয়েছে—তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা জরুরি ভিত্তিতে আমাদের দিতে অনুরোধ করেছি,” বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ কিছু কর্মকর্তা একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে নেক্কারজনকভাবে কাজ করছেন। এসব অভিযোগ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও পক্ষপাতমূলক ভূমিকার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। এসব বিষয়ে কমিশনের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে বিএনপি।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “সুষ্ঠ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমাদের দলের চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত সফর পর্যন্ত বাতিল করেছেন। অথচ অন্য দলের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে আচরণবিধি ভঙ্গ করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।”

তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করে এসেছে এবং এখনো মনে করে—এই কমিশনের মাধ্যমেই সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব, যদি উত্থাপিত সমস্যাগুলোর নিরপেক্ষ সমাধান করা হয়। “আমরা কমিশনকে পক্ষপাত পরিহার করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছি,” বলেন তিনি।