জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় স্থায়ী রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

সংঘাতের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে জবাবদিহিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ

স্টাফ রিপোর্টার | ০৪ আগস্ট ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের একটি স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, বারবার সংঘাত ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যাওয়া কোনো আত্মতৃপ্তির বিষয় নয়; বরং এটি একটি নির্মম বাস্তবতা। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কাউন্সিল ভবনে বুয়েট শিক্ষক সমিতি আয়োজিত ‘মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ উপলক্ষে স্মরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে এমন একটি ন্যূনতম জনমতের ভিত্তি বা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যার নিচে আর কেউ যেন নামতে না পারে। তাহলেই ভবিষ্যতে সংঘাতের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তান আমল, মহান মুক্তিযুদ্ধ, সামরিক শাসন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন—বাংলাদেশের ইতিহাস মূলত রূপান্তর ও সংগ্রামের ইতিহাস। কিন্তু এখনো এমন একটি স্থায়ী ও কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি, যা মানুষের মেধা, যোগ্যতা ও সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করতে পারে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশে এ পর্যন্ত ১৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সর্বশেষ নির্বাচন ছিল সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। এরপরও সংসদীয় ব্যবস্থা ও বিচার বিভাগ এখনো প্রত্যাশিত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারেনি। জুলাইয়ের আত্মত্যাগের পরও যদি জবাবদিহিমূলক ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা না যায়, তবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক ত্রুটিগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের অসংখ্য মেধাবী মানুষকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। এসব ত্রুটি দূর করে নতুন প্রজন্মের জন্য বৈষম্যহীন, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

শিক্ষকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নন; তারা তরুণ প্রজন্মের পথপ্রদর্শক। তাই পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার দায়িত্বও তাদের পালন করতে হবে।

বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।

এছাড়া বুয়েটের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী, পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল জলিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বক্তব্য দেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আদর্শ ধারণের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।