জুলাই-পরবর্তী দেশ গঠনে আচরণগত পরিবর্তনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, তরুণদের মধ্যেই আশা দেখছেন মির্জা ফখরুল

জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের ওপর জোর; দুর্নীতিগ্রস্ত সংস্কৃতি বদলের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার | ৩০ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: জুলাই-পরবর্তী দেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাজ পরিবর্তনের নতুন আশা জাগাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী আচরণগত সংস্কৃতির পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিএফপি অডিটোরিয়ামে জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার বার্তা দিচ্ছেন এবং মানুষকে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহিত করছেন। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনগুলোকে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর মতে, দেশের তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, মন-মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। তবে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গত পাঁচ মাসে দৃশ্যমান পরিবর্তন খুব একটা দেখা যায়নি। তাঁর ভাষায়, প্রধানমন্ত্রীই দেশ ও সমাজ গঠনের পরিবর্তনের ধারাকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে যারা ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের অনেকেই এখন নিজেদের অবস্থান বদলে নতুন পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন। তিনি এ প্রবণতাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের সংস্কৃতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের পরও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে ভোগবাদী মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রশ্ন করেছেন—দেশ বদলাবে যে তরুণরা, তারা কোথায়? ২০২৪ সালে সেই তরুণরাই আন্দোলনে নেমে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, পুরোনো সমাজব্যবস্থায় ফিরে গেলে তাদের আত্মত্যাগ বৃথা হয়ে যাবে।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বাধীনতার সময় তাঁর ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষের জন্য তাঁর সংগ্রাম স্মরণীয়। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর ভিডিও বার্তায় বেগম খালেদা জিয়া প্রতিশোধহীন ও প্রতিহিংসামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও পিএসসির সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।