স্টাফ রিপোর্টার | ৩০ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মাথায় গুলির ক্ষত এবং শরীরে ৩৬টি স্প্লিন্টারের চিহ্ন বহনকারী জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা শেখ আজিজুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে শেখ আজিজুর রহমান ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মাথার রক্তক্ষরণ ঠেকাতে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক রক্তমাখা জাতীয় পতাকাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন। উপ-প্রেস সচিব জানান, এ সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে আজিজুরের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি গণমাধ্যমে ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজিজুরের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে আজিজুরের আহত হওয়ার ঘটনা, চিকিৎসা, লেখাপড়া এবং সিএনজি চালিয়ে শিক্ষাজীবনের ব্যয় বহনের সংগ্রামের কথা শোনেন। তাঁর আত্মত্যাগ ও কঠোর জীবনসংগ্রামের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেন।
প্রধানমন্ত্রীকে রক্তমাখা পতাকা উপহার দিয়ে শেখ আজিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। তিনি জানান, নিজের কষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রী নিজে শুনেছেন এবং খোঁজ নিয়েছেন। বহুদিনের ইচ্ছা ছিল রক্তমাখা পতাকাটি তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার, যা আজ পূরণ হয়েছে।
শেখ আজিজুর রহমান সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তাঁর বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মিরপুর-১০ নম্বর ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আলোচনায় আসেন শেখ আজিজুর রহমান। আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর মাথার রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে তিনি জাতীয় পতাকাটি মাথায় বেঁধে নেন। রক্তাক্ত অবস্থাতেও তিনি আন্দোলনের রাজপথ ছাড়েননি। পরে ১৯ জুলাই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই মুক্তি দেওয়া হয়।





