স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
দেশের নগর স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের বাস্তবতায় নগর স্বাস্থ্যসেবাকে মূল ধারার বাইরে রেখে টেকসই জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ কারণে নগর স্বাস্থ্যসেবাকে সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল কাঠামোর আওতায় আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে সিএসও ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ‘টেকসই এসআরএইচআর ইকোসিস্টেম’ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
২০৫০ সালে শহরে বসবাস করবে অর্ধেক মানুষ
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে শহুরে জনসংখ্যা ছিল ১০ শতাংশেরও কম। ফলে তৎকালীন স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রধান মনোযোগ ছিল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দিকে।
বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে এ হার ৫০ শতাংশে পৌঁছাবে।
তিনি বলেন, সরকার শুধু বর্তমানের জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলছে না, আগামী দিনের প্রয়োজনের কথাও বিবেচনায় রাখছে। তাই নগর স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় থাকবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর
ড. এম এ মুহিত বলেন, এতদিন নগর স্বাস্থ্যসেবা মূলত সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও এনজিওগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল। ওই মডেলের নমনীয়তা ও ইতিবাচক দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে এখন সরকারের অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ কাঠামোয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর যৌথভাবে নগর স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনায় ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।
বিশেষ করে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ হবে বলেও উল্লেখ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা
তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন ড. এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, বিদ্যমান ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে নতুন স্বাস্থ্যকর্মীদের একই কাঠামোর আওতায় এনে সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এসব ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং’ কর্মীর হাতে আধুনিক ডায়াগনস্টিক কিট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ডিজিটাল অ্যাপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দিতে পারবেন।
নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সান্ধ্যকালীন ক্লিনিক
নগরের নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সান্ধ্যকালীন ক্লিনিক চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
একই সঙ্গে নগরের ভাসমান জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণ করে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিটি ক্যাচমেন্ট ইউনিটে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
২০-৩০ বছরের জন্য টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা
নগর স্বাস্থ্যসেবার রূপরেখা বাস্তবায়নে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত করার তাগিদ দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে এমন একটি জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর দেশের জনগণকে কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা দিতে সক্ষম হবে।
সভায় যারা বক্তব্য রাখেন
আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও সিএসও ফোরামের আহ্বায়ক ডা. সায়েদ রুবাইয়েতের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক জিনাত রেহানা।





