প্রবাসীদের জন্য স্থায়ী কল্যাণ কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান: নজরুল ইসলাম খান

প্রবাসী শ্রমিকদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ কল্যাণে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা জরুরি—বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য

স্টাফ রিপোর্টার | জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি


প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে একটি স্থায়ী কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি সরকারের আন্তরিকতার প্রমাণ রয়েছে, যা প্রবাসে থাকা ও দেশে ফেরা বাংলাদেশিরা চিরদিন স্মরণ রাখবেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, যারা প্রবাসে আছেন বা ছিলেন, তারা বিএনপি সরকারের এই অবদান কখনো ভুলবেন না। ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবেন, তাদের উচিত প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য নতুন নতুন কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা।”

তিনি বলেন, প্রবাসীরা শুধু দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখেন না, বরং সারা বিশ্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেন। “সময় ও বাস্তবতা বদলাচ্ছে, প্রবাসীদের সমস্যাও বদলাচ্ছে, সুযোগও পরিবর্তিত হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন,” বলেন তিনি।

প্রবাসীদের অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রবাসে কাজ করা মানুষদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত মূল্যবান। তারা যে অর্থ সঞ্চয় করে দেশে নিয়ে আসেন, তা আসে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে। বিদেশে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ খুব কম। কেউ মরুভূমির প্রচণ্ড গরমে, কেউ তীব্র শীতে, আবার কেউ মালয়েশিয়ার জঙ্গলে কাজ করে কষ্টার্জিত অর্থ উপার্জন করেন।”

তিনি আরও বলেন, “এই কষ্টে অর্জিত অর্থ যদি প্রবাসী প্রত্যাগতরা তাদের ভবিষ্যৎ কল্যাণে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারেন, তাহলে কিছুদিন পর সেই টাকা শেষ হয়ে যাবে এবং তারা নিঃস্ব হয়ে পড়বেন।”

এ কারণে প্রবাসী প্রত্যাগত শ্রমজীবীদের জন্য সুপরিকল্পিত কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রবাসী প্রত্যাগত শ্রমিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে স্থায়ী কল্যাণ নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। দেশের বিদ্যমান আইন, প্রচলিত ব্যবস্থা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধার আলোকে এসব পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

পাশাপাশি তিনি প্রস্তাব দেন, বিদ্যমান আইন, বিধান ও ব্যবস্থার কীভাবে উন্নয়ন করা যায়—সে বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা দেওয়া হলে প্রত্যাগত প্রবাসীরা বাস্তবভাবে উপকৃত হবেন।