বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রায় শূন্যের কোঠায়, রাজনৈতিক মামলাও প্রত্যাহার হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই হবে, বিশেষ অধিবেশনের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য

স্টাফ রিপোর্টার | ২৫ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড (এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং) গত কয়েক মাসে প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে গুমের (এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স) অভিযোগের ক্ষেত্রে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভুক্তভোগীদের ন্যায় বিচারের প্রবেশাধিকার’ শীর্ষক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। গুমের একটি রিপোর্টেড ঘটনা সামনে আসার পর সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনায় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, একজন বিচারক যদি স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তাহলে বিচার বিভাগ দুর্বল হয়ে পড়ে। স্বচ্ছ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে স্বাধীন ও কার্যকর বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার এ ধরনের মামলা প্রত্যাহারে নিরলসভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের চক্র থেকে বেরিয়ে এসে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পথে এগোতে সরকার কাজ করছে। তবে এসব সংস্কার বাস্তবায়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সে হিসেবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময় রয়েছে। তাই এ মুহূর্তে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ১৫ জুলাই থেকে ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আশা করা হচ্ছে, সেই অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “সেটা সময়ই বলে দেবে।”

মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর সভাপতি ড. তাসনীম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এবং আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।