বিজয় ও মুক্তি: বিএনপির সালাউদ্দিন আহমেদের মৃত্যু উপত্যকা বিষয়ক বক্তব্য

শহীদ ও নিখোঁজদের স্মরণ, গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের হিসাব

স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ইজানুয়ারি ২০২৬
নিউজ চ্যানেল বিডি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “আমরা একটি রাক্ষস রাজ্যে ছিলাম এবং মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছিল। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সহস্র সহস্র আত্মদানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছি। তবে অনেকেই আজও ফিরে আসেনি, তাদের পরিবার কি করবে?”

মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৭০৯ জন নিখোঁজের রেকর্ড ছিল। গুম কমিশন গঠনের পর ১৮৫০ জন নিখোঁজ হিসেবে রেজিস্টারড হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫০ জনের তদন্ত চলছে। এর মধ্যে ১৫৫ জন এখনও ফিরে আসেনি। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ২৬৯৩ জনের তথ্য ২০২৩ পর্যন্ত পাওয়া গেছে, যা পরবর্তীতে ৩,০০০ অতিক্রম করেছে।

জেলখানায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১,০৪৮ জন। রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার বহু মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে, গুম ও খুনের শিকার হয়েছে ৭১৮ জন। ২০২৪ সালে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট অনুসারে ১,৪০০-এরও বেশি শহীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, এবং ২০,০০০-এর বেশি মানুষ আহত বা চিরজীবনের জন্য অক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে ৫০০-এর বেশি মানুষ চোখে বা দু’চোখে অন্ধ হয়েছেন।

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এত চমকপ্রদ রক্ত, এত আত্মদান পৃথিবীর অন্য কোনো জাতি দিয়েছে কিনা জানা নেই। যারা অবদান রেখেছেন, যারা শহীদ হয়েছেন, ঘুম হয়েছেন, খুন হয়েছেন, এবং যারা আজও অশ্রু দিচ্ছেন, এই জাতি তা মনে রাখবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আপনাদের চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে দাবি রাখা হয়েছে—যদি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে সরকারে নিয়ে আসেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হন, তিনি এই সমস্ত খুন ও নিখোঁজের বিচার করবেন। আমরা দোয়া করব, যেন প্রত্যেকটি ঘুমের খুনের বিচার এদেশে সম্ভব হয়।”