✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮

ব্যাংকিং ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

তরুণ উদ্যোক্তাদের ঋণসুবিধা ও উদ্ভাবনী খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ

স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংকিং খাতের গৌরব ফিরিয়ে আনতে ব্যাংক মালিক ও ব্যাংকার নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমরা যখন গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছি, তখন দুর্ভাগ্যক্রমে ক্ষমতাশালীদের সহায়তায় দেশের ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে। ফলে ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ এবং দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর গ্রাহক ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গভবনে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংক (বিএবি)-এর সভাপতি আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

প্রতিনিধিদলে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ২৬টি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে বলেও রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বিগত শাসনামলে গোয়েন্দা বাহিনীকে ব্যবহার করে ব্যাংক দখলের ঘটনা ঘটেছে এবং জোর করে শেয়ার লিখে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে ব্যাংকগুলোতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। এ উদ্যোগ দেশের ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম বন্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এ সময় তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের অর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে ব্যয়ের জন্য ব্যাংক মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

নতুন ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণসুবিধা নিশ্চিত এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পসহ বিভিন্ন উদ্ভাবনী খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে তিনি উপস্থিত নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি ব্যাংকিং খাত। কিন্তু বিগত সময়ে ক্ষমতাশালী গোষ্ঠী ব্যাংকের টাকা পাচার করায় হাজার হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে।

এ সময় তারা আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা দিতে না পারা তাদের জন্য অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন।

তাঁরা জানান, দেশের মোট অর্থের মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন হয়। সেজন্য তাঁরা ডিজিটাল অর্থনীতি ও কিউআর কোড চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নেতৃবৃন্দ ব্যাংকিং খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গ্রাম পর্যায়ে ব্যাংকের শাখা চালু, পরিশোধিত মূলধন ও লভ্যাংশ প্রদানে বিদ্যমান নিয়ম বহাল এবং আইনশৃঙ্খলা সুরক্ষার ওপর জোর দেন।

এ সময় তাঁরা ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।