স্টাফ রিপোর্টার | ১ অক্টোবর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিসিএস পরীক্ষা, নিয়োগ কিংবা অন্যান্য সরকারি প্রক্রিয়ায় কাউকে বৈষম্যের শিকার হতে হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ শিক্ষা) ক্যাডারে নিয়োগের গেজেট বিজ্ঞপ্তি নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তির পরিপ্রেক্ষিতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল একটি মানবিক, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। কারও রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, বিসিএস পরীক্ষা, নিয়োগ কিংবা অন্য কোনো সরকারি প্রক্রিয়ায় সেই পরিচয়ের কারণে বৈষম্য করা হবে না।
৪৯তম বিসিএসের নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে গতকাল প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এ বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে ৬৬৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ফলে প্রাথমিক হিসাবে ৫৭ জনের নাম প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
তবে বাদ পড়া ৫৭ জনের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেননি এবং আটজন মেডিকেল পরীক্ষায় উপস্থিত হননি। সে হিসাবে প্রাথমিক প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা ৪৬ জন বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিসিএসসহ সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন, মেডিকেল পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সনদ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এসব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে। গুরুতর অপরাধের অভিযোগ বা সংশ্লিষ্ট আইনি জটিলতার কারণে যাচাই-বাছাইয়ে কোনো কোনো প্রার্থী বাদ পড়তে পারেন।
চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে একজন প্রার্থীর নাম না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মহত্যা বা গায়ে আগুন দেওয়ার হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়োগের গেজেট একবারই প্রকাশ করতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার প্রজ্ঞাপন জারি করা যেতে পারে।
তিনি জানান, ৪৯তম বিসিএসের সার্ভিসে যোগদানের তারিখ ১২ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আরও সময় রয়েছে। বাদ পড়া প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে—এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের ভিত্তিতেই নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি না করার জন্যও তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য মিষ্টির পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না, তা তাঁর জানা নেই। বিষয়টি স্পিকার বলতে পারবেন। দলীয় বিষয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
হকারদের উচ্ছেদ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার হকারদের বেকার করতে চায় না। তাঁদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান ও বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে হলিডে মার্কেট চালুর বিষয়েও কাজ চলছে।
সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনটিতে এখনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করছে। কোথাও অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ, মামলা দায়ের, তদন্ত ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব না হলেও ১২, ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সাত দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল এবং ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন হওয়ার নজির রয়েছে। অপরাধ দমন ও বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে বলেও জানান তিনি।





