স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
দেশের শিক্ষার প্রকৃত মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের তাগিদ
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের উপস্থিতি এবং তাদের পাঠদান পদ্ধতি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেও শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে পারে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে উল্লেখ করে ড. মিলন বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বাজারের চাহিদাভিত্তিক কোর্স চালু, শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং কারিকুলাম পরিমার্জন ও আধুনিকীকরণ সময়ের দাবি।
শিক্ষায় আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন
দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের বিকল্প নেই জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে শিক্ষা বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং গবেষণা খাতেও পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা রাখা হয়েছে। আগামী বছর চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চারটি নতুন বই পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে এবং ২০২৮ সালের কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
তবে শিক্ষার বাস্তব রূপান্তরের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
খাতা মূল্যায়নে গাফিলতিতে জবাবদিহিতার হুঁশিয়ারি
সাম্প্রতিক এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল পুনঃমূল্যায়ন প্রসঙ্গে অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, পুনঃমূল্যায়নে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এটি খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি বা সমস্যার স্পষ্ট প্রমাণ।
যেসব পরীক্ষক সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়ন করেননি, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষকদের পেশাদারিত্ব বাড়াতে যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫৭ শিক্ষার্থী পেল ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এ বছর মনোনীত ৫৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’-এর সনদপত্র, ক্রেস্ট ও ২৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন।
এছাড়া ২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ৮৯৭ জন শিক্ষার্থীকে ৬ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার তথ্য জানানো হয়।





