স্টাফ রিপোর্টার | ৫ আগস্ট ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনা ছিলেন ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট। তিনি দাবি করেন, বিশ্বের নিষ্ঠুর ফ্যাসিস্ট ও নাৎসি শাসকদের সঙ্গে শেখ হাসিনার মৌলিক পার্থক্য ছিল।
বুধবার রাজধানীর গুলশানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরের আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলার ও বেনিতো মুসোলিনির মতো ফ্যাসিস্টরা জাতিগত নিপীড়নের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করলেও তারা নিজেদের জাতিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছে। তবে শেখ হাসিনা টাকা পাচার, ব্যাংকের অর্থ লুট, শেয়ারবাজার ধ্বংস এবং সরকারি সম্পদ দখলের মাধ্যমে দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষায়, শেখ হাসিনার মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন করে আত্মীয়স্বজনকে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করা। এ কারণেই তিনি ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট।
বিএনপির এই নেতা বলেন, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের এক বিশেষ চোরাপথে বাংলাদেশে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে। প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে আওয়ামী লীগ জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রিজভীর দাবি, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে কোলের শিশুসহ রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি, ফলের দোকানের কর্মচারী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত হয়েছেন।
রিজভী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনগণের এক ঐতিহাসিক জাগরণ। জনগণের শক্তিকে অবমূল্যায়ন করায় শেখ হাসিনা বারবার বিতর্কিত নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন। বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশ ছাড়া সেই সরকার আন্তর্জাতিক সমর্থন পায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যেভাবে আন্দোলন করেছেন, ভবিষ্যতেও তারা সেই গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশ নেবেন।





