স্টাফ রিপোর্টার | ০৩ আগস্ট ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের রক্তস্নাত ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে জাতীয় সংসদকেই রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতিকে আজও কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা কাজ করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংসদকে কার্যকর করা, রাজনৈতিক বিতর্ককে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মধ্যে আবদ্ধ রাখা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে মহিমান্বিত করাই আমাদের সবার একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ৫৫ বছর পরও ভোটাধিকারের জন্য মানুষকে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে, যা জাতির জন্য একই সঙ্গে লজ্জা ও আত্মসমালোচনার বিষয়। তবে দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত ভোটাধিকারের ভিত্তিতেই জনগণ তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং বর্তমানে জাতীয় সংসদ পরিচালিত হচ্ছে।
সংসদকে রাজনীতির মূল কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এত রক্ত ও বিসর্জনের পর অর্জিত এই গণতন্ত্র ও সংসদই হওয়া উচিত আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, শহীদদের স্মরণ করতে এসেও আমরা দেখছি আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা না নিয়ে রাজনীতিকে সংসদের বাইরে কৃত্রিমভাবে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাধারণ মূল্যবোধের বাইরে গিয়ে নানা অশ্লীলতা ও চক্রান্তের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে, যা কোনো শুভ লক্ষণ নয়।’
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষরের সঙ্গে শহীদদের রক্ত মিশে আছে। দেশনায়ক তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় বর্তমান সরকার নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে জুলাই সনদের শতভাগ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি আরও বলেন, সংসদকে আরও সক্রিয় করা, বিচার বিভাগের মর্যাদা বৃদ্ধি, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বিপুলসংখ্যক তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলে থাকাকালে যেভাবে গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য আন্দোলন করা হয়েছে, ঠিক একইভাবে ক্ষমতায় থেকেও প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। গণতান্ত্রিক সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা নিশ্চিত হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, যুগান্তর-এর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





