সরকারের তিন মাসে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু: মাহদী আমিন

তরুণ ও নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার

স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, নির্বাচিত হওয়ার পর গত তিন মাসে বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলো দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ ও নারী জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও-এ এনজিও বিষয়ক ব্যুরো মিলনায়তনে আয়োজিত ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে বৃক্ষরোপণ: এনজিওর ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, বর্তমানে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সংযোগের ঘাটতি রয়েছে। সরকার এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে দক্ষতা ও কারিগরি যোগ্যতাই হবে শিক্ষার মূল ভিত্তি।

তিনি বলেন, “সবার অনার্স-মাস্টার্স করার প্রয়োজন নেই; বরং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষার মাধ্যমে আমরা ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমি কোলাবরেশন তৈরি করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, সার্টিফিকেট অর্জনের চেয়ে সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা এবং ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

সরকারের তিন মাস পূর্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে মুখপাত্র বলেন, “মানুষের বিশাল প্রত্যাশার বোঝা আমাদের কাঁধে। গত ১৮ বছর যা ছিল না, সেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন আমরা ফিরিয়ে আনতে চাই।”

তিনি বলেন, মানুষের যৌক্তিক সমালোচনার অধিকার থাকবে এবং আদর্শিক ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

মাহদী আমিন জানান, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী এবং কৃষি ঋণের মতো প্রতিশ্রুতিগুলোর পাইলট বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব কার্যক্রম সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরিতে এনজিওগুলোর অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে এনজিওগুলোর ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। সরকার এককভাবে নয়, বরং এনজিওগুলোকে বাস্তবায়ন অংশীদার হিসেবে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে চায়।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়; এ জন্য দক্ষ জনবলও প্রয়োজন। বিদেশেও বৃক্ষরোপণের জন্য দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। তাই এনজিওগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে জনশক্তিকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।