সরকারের লক্ষ্য টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা: পানিসম্পদ মন্ত্রী

নদী-খাল সংরক্ষণ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ

স্টাফ রিপোর্টার | ২৯ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু খাল খনন নয়; নদী, খাল, জলাধার ও পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বৃত্তাকার নৌ-পথের পুনরুজ্জীবন ও অভ্যন্তরীণ নৌ-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, দেশের খালগুলো প্রকৃতির রক্তনালীর মতো। খাল, নদী ও জলাধারের স্বাভাবিক প্রবাহ এবং পারস্পরিক সংযোগ বজায় না থাকলে পরিবেশ, পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, নৌ-পরিবহন ও অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই খাল পুনঃখনন, নদী সংরক্ষণ এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষের শরীরে যেমন রক্ত চলাচলের জন্য রক্তনালী অপরিহার্য, তেমনি দেশের খালও প্রকৃতির জীবনরেখা। একটি খালের সঙ্গে অন্য খাল বা নদীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কৃষি, পরিবেশ, নৌ-যোগাযোগ ও নগরজীবনে।

মন্ত্রী জানান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বর্তমানে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম), সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এবং ওয়ারপোর মতো বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের গবেষণা ও পরামর্শের ভিত্তিতে পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। অতীতের বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে এখন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ভূমি, কৃষি, স্থানীয় সরকার, নৌপরিবহন, পরিবেশ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। অতীতে এ ধরনের সমন্বয়ের অভাবে খাল খনন কর্মসূচির প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু ও টঙ্গী নদীর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। শিল্পবর্জ্য, নদী দখল এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে এসব নদী মারাত্মক সংকটে রয়েছে। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের সমস্যা নয়; বরং রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করা, নদীতীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং জলপথে ওয়াটার ট্যাক্সি চালুর পরিকল্পনার কথা বলা হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ প্রতিবেশী দেশের বিভিন্ন শহরে নদীকেন্দ্রিক উন্নয়ন অর্থনীতি ও পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, উপরিভাগের পানির উৎস সংরক্ষণ করা না গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বড় ধরনের পানিসংকটের মুখোমুখি হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের পরিকল্পনা মাথায় রেখে এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

সেমিনারে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়া পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), সিইজিআইএস, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নেন।