রমজানে মাছ–মাংসের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি

সপ্তাহে কেজিতে বেড়েছে ১০০–১৫০ টাকা, চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

রোজা উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছ ও মাংসের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। রমজানের আগে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হলেও মাসের শুরুতেই বেশিরভাগ মাছের দাম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে বাজারে ৩৫০ টাকার নিচে তেমন কোনো মাছ মিলছে না। একই সঙ্গে গরু ও খাসির মাংসও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। এতে চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।

শুক্রবার রাজধানীর বনশ্রী কাঁচাবাজার, কৃষি মার্কেট, জিগাতলা কাঁচাবাজার ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ চাষের মাছ কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও কম ছিল। ইলিশ আকারভেদে ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাবদা, টেংরা, বোয়ালসহ দেশি মাছের দাম কেজিপ্রতি ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা। তবে আকারভেদে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় কিছু পাবদাও মিলছে। পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বনশ্রীতে বড় তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা, বড় রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বড় শিং ৫০০ টাকা এবং বড় কই ২৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাছের পাশাপাশি মাংসের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, কারওয়ান বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। পাইকারি বাজারের দামের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই বলেও জানান তিনি।

জিগাতলা কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী মজিবর মাতবর বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন খরচ, বরফ ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হয়ে খরচ বেড়েছে। এতে চাইলেও কম দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে কেন্দ্র করে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে। বাজার তদারকিতে কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

রফিকুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, রোজার আগে যে মাছ ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় কিনেছেন, তা এখন ৩৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। বড় মাছ কিনতে গেলে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকার নিচে মিলছে না। মাংসের বাজারেও একই অবস্থা।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে আসা আরেক ক্রেতা বলেন, রমজানে বাজার করতে এলে পকেট প্রায় খালি হয়ে যায়। আগে যে মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনতেন, তা এখন ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।