প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিশোধ নয়, দেশের জন্য কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান; গণমাধ্যমের সহযোগিতা ও তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলা-সংস্কৃতির ওপর জোর

স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের অগ্রগতির জন্য প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং দেশের জন্য কী করা যায় সেই চিন্তা নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে যা হয়েছে, প্রতিশোধ নিলেও তা আর ফেরত পাব না। তাই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি, সে চেষ্টা করতে হবে। সফলতা পরে আসবে, আগে প্রয়োজন দেশের জন্য কাজ করার মানসিকতা।”

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার বারবার প্রমাণ করেছে যে গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের কোনো শত্রুতা নেই। বর্তমান সরকারও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায় এবং সরকারের ভুলত্রুটি নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা প্রত্যাশা করে।

তিনি বলেন, “শুধু সরকার একা সব করতে পারবে না। আপনাদের সহযোগিতা দরকার। আপনারা না বললে আমি বুঝতে পারব না কোন কাজ ভালো হচ্ছে, কোনটি হচ্ছে না।”

সংবাদপত্রের কালো দিবসের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন দেশের অধিকাংশ সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং মাত্র চারটি পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণের ঘটনা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

তরুণ সমাজের মাদকাসক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় বিকল্প উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা কতজনকে ধরব, কতজনকে চিকিৎসা দেব—তারও সীমাবদ্ধতা আছে। তাই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।”

তরুণদের শারীরিক ও মানসিক শক্তিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি খেলাধুলা, সংস্কৃতি, বিতর্ক ও বিজ্ঞানচর্চা বাড়ানোর আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে খেলার মাঠের সংকট রয়েছে, যা দূর করতে হবে।

তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত শিক্ষা বিভাগীয় এক আয়োজনে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চা বাড়াতে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরজুড়ে সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা চালুর আহ্বান জানান।

সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকাল দেখা যায় একটি জীবন্ত প্রাণীকে নির্যাতন করা হচ্ছে আর অনেকে সেটি মোবাইলে ধারণ করছে। এ ধরনের মানসিকতা পরিবর্তনে স্কুল পর্যায় থেকেই সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে।”

তিনি জানান, সামাজিক সচেতনতা ও মূল্যবোধ গড়ে তুলতে তথ্য মন্ত্রণালয়কে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মতবিনিময় সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।